Wednesday, 03 September 2014
Blue Grey Red

শেয়ার করুন

স্বাধীনতা আমাদের গৌরব সেই গৌরব ধরে রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে -আরিফুর রহমান সোহেল

স্টাফ রিপোর্টার ঃ  আমি গর্ববোধ করি আমি একজন বাঙ্গালী। আমি গর্বিত আমি মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ...

”ওয়ালটন” পণ্যের প্রতি আস্থা ফিরেছে দেশের কোটি মানুষের

৯০ দশকে সাংবাদিকতায় আসেন এনায়েত ফেরদৌস। দৈনিক রুপালী হয়ে বর্তমানে ইংরেজি দৈনিক নিউজ টুডে’র সিনিয়র সাব এডিটর। সেই...

প্রাণের পাঁচটি মসলা পরীক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টের

এনিউজ২৪.নেটঃ প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেড কোম্পানির মরিচ, আদা, জিরা, ধনিয়া ও রসুনের গুঁড়ায় মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর...

Joomla Templates and Joomla Extensions by JoomlaVision.Com

মতামত

ইদানিং হঠাৎ এক বুদ্ধিজীবী এবং দুষ্ট বান্দরের গল্প!


গোলাম মাওলা রনি: বিষয়টি প্রথমে আমি বুঝতেই পারিনি। যখন পারলাম তখন একটার পর একটা অদ্ভূত ঘটনা ঘটতে লাগলো। হঠাৎ করেই একদিন টের পেলাম - মাথাটা ভীষন চুলকাচ্ছে। মনে করলাম হয়তো খুশকী হয়েছে কিংবা মাথার চামড়ায় কোন এলার্জি দেখা দিয়েছে। ভালো শেম্পু দিয়ে মাথা পরিস্কার করলাম এবং খুশকীরোধক কিছু ওষুধ মাখলাম। কোন কাজ হলো না। উল্টো মাথার চুলকানি বেড়ে গেলো। ডাক্তার দেখালাম। অনেক পরীক্ষা নীরিক্ষার পর সার্টিফিকেট পেলাম যে - মাথার চামড়ায় কোন এলার্জি নেই। তাহলে কি হতে পারে ! এতো চুলকাচ্ছে কেনো। নিশ্চয়ই উকুন হয়েছে। বাজার থেকে উকুন নাশক সাবান আনলাম। কাজের কাজ কিছু হলো না - মাঝখান থেকে কিছু চুল পড়ে গেলো এবং চুলকানী বেড়ে গেলো। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গেও পরামর্শ করতে পারলাম না। কারণ - তার মাথায় কোনো উকুন নেই। সে যদি প্রশ্ন করে বসে - তোমার মাথায় উকুন এলো কেমনে - তাহলে বেইজ্জতির কোনো সীমা থাকবে না। ছোট কাল থেকে জানতাম - বান্দর নাকি খুব ভালো উকুন বাছতে পারে। সত্য মিথ্যা জানিনা - কিন্তু শৈশবের ধারণাটি বহন করে চলছিলাম ধারাবাহিকভাবে। মনে মনে চিন্তা করলাম দেখি বান্দর দিয়ে কিছু করানো যায় কিনা ! আর সব শেষ চিকিৎসা মাথা টাক করা আমার একেবারেই অপছন্দ। এখন সমস্যা হলো বান্দর কোথায় পাই ? সাধারণ বান্দর হলে চলবে না - প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হতে হবে। অনেক সময় বিভিন্ন পার্কে কখনো কখনো ২/১ জন লোককে দেখা যায় যারা বান্দর নাচ দেখিয়ে পয়সা উপার্জন করে কিংবা নানা টুটকা কবিরাজী ওষুধ পত্র বিক্রি করে। আমি বেরিয়ে পড়লাম বান্দরের খোঁজে। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে একটি নাদুস নুদুস দুষ্টু বান্দরের সন্ধান পেলাম ধানমন্ডি লেকের পাড়ে। সময়টা ছিলো বিকেল বেলা। বান্দরের মালিক ডুগডুগি বাজিয়ে বিভিন্ন রকম দূর্বোধ্য বাক্য উচ্চারণ করছে আর মালিকের হুকুমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বান্দরটি ধ্যাতাং ধ্যাতাং করে নাচছে। আমি মাথার চুলকানি ভুলে অনেক্ষণ ধরে সেই ক্ষ্যামটা নাচ দেখলাম। প্রায় ঘন্টা দেড়েক পর নাচ শেষ হলো। দর্শকরা যে যার মতো চলে গেলো। দাঁড়িয়ে রইলাম আমি আর বান্দরের মালিক। আমি এগিয়ে গিয়ে লোকটির সঙ্গে মোলাকাত করলাম এবং লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে মনের কথা খুলে বললাম। তিনি তো ভারী অবাক - নাম তার টিডিক্কা। সারা জীবনে এমনতরো অদ্ভূত প্রস্তাব শোনা তো দূরের কথা - হয়তো কল্পনাও করেননি। একজন প্যান্ট শার্ট পরা ভদ্রলোক তার কাছে এসেছে বান্দর দিয়ে মাথার উকুন বাছানোর জন্য - এও কি সম্ভব। তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে তারপর বললেন - আচ্ছা ঠিক আছে কাল সকালে আমার বস্তিতে আসুন। আমি বস্তির ঠিকানা এবং লোকেশন ভালোভাবো জেনে নিলাম। বান্দরটির হাতে একশ টাকার একটি নোট গুঁজে দিলাম এবং মালিকের হাত ধরে বললাম- ভাই কথাটা কাউকে বলবেন না। ভদ্রলোক মুচকি হাসি দিয়ে বললো-কাউকে বলবো না কেবল স্ত্রীকে ছাড়া। আমি আবার আমার স্ত্রীকে কোন কথা না বলে একদম থাকতে পারিনা। নির্দিষ্ট সময় আমি বস্তিতে উপস্থিত হলাম এবং জনাব টিডিক্কার ঘরে পৌঁছালাম। ছোট ছোট দুটো মেয়ে শিশু এবং সুন্দরী একটি বউ নিয়ে তার সুখের সংসার। আমি ঘরে ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে গৃহকর্ত্রী ফুলবানু দরজা বন্ধ করে দিলো। তাদের কথা মতো মাথায় আচ্ছা মতো নারকেল তেল মাখলাম। এরপর শুরু হলো বান্দরের উকুন মারা। অসম্ভব দক্ষতার সঙ্গে বান্দরটি তার কর্ম করতে থাকলো। আবেশে আমার ঘুম চলে এলো। কিন্তু ঝিমুনি আসতেই বান্দরটি এমন একটি কর্ম করতো যাতে আমার ঘুম ভেঙে যেতো। ওটি ছিলো যথেষ্ট দুষ্টু এবং পাজী প্রকৃতির বান্দর। আমি যখন ঝিমিয়ে পড়ছিলাম - ওটি তখন সজোরে আমার কান মলে দিচ্ছিলো আর বাচ্চারা সব খিলখিলিয়ে হেসে উঠছিলো। ২/১ বার আমার একটু অভিমান হলো। পরে দেখলাম বান্দরের কানমলা খেতে বেশ ভালই লাগে। প্রায় ঘন্টা দুয়েক ধরে বান্দরটি তন্ন তন্ন করে আমার মাথার উকুন খুঁজলো। কিন্তু পেলনা একটিও, এমনকি একটি উকুনের বাচ্চা বা ডিমও পেলনা। আমি হাজার খানেক টাকা বকশিশ দিয়ে ফিরে আসার পূর্বে ফুলবানুর হাতের চা নাস্তা খেলাম এবং তার ছোট্র শিশু দুটিকে কোলে তুলে আদর করে দিলাম। ফিরতি পথে টের পেলাম - আমার চুলকানী বেশ কমেছে কিন্তু পুরোপুরি শেষ হয়নি। বহুদিন পর সে রাতে আমার চমৎকার একটি ঘুম হলো। ঘুমের ঘোরে অদ্ভূত এক স্বপ্ন দেখতে পেলাম - স্বপ্নে সৌম্য দর্শন এক স্বর্গীয় পুরুষ আমার সামনে আসলেন। তারপর পরম স্নেহে আমার মাথায় হাত বুলাতে লাগলেন। আমি সম্ভ্রমে উঠে দাঁড়ালাম এবং মন্ত্র মুগ্ধের মতো তার কথা শুনতে লাগলাম । আমার স্বপ্ন পুরুষ বললেন - প্রিয় বৎস ! নিশ্চয়ই তুমি গত কয়েকদিন যাবৎ তোমার মাথার চুলকানি নিয়ে মহা ফ্যাসাদে আছো। আজকের পর থেকে তোমার চুলকানি বন্ধ হবে। কিন্তু পরবর্তী ৭ দিন তোমার পেট সর্বদা পুট পুট করবে - ভীষণ পুট পুট। তোমার মনে হবে একটু বায়ূ ত্যাগ করতে পারলে বোধ হয় তুমি প্রাণে বেঁচে যাবে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও তুমি পেটের পুট পুটানী যেমন বন্ধ করতে পারবেনা - তেমনি বায়ু ত্যাগও করতে পারবে না। ওষুধ পত্র খাওয়া কিংবা চেষ্টা তদ্বির যতো বেশি করবে ততই বিপদ বাড়বে এবং পুট পুটানী অসৈহ্য মনে হবে। ৭ দিন পর সবকিছু এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে আর তুমি প্রবেশ করবে- অনন্য এক নতুন ভুবনে। স্বপ্ন পুরুষের সৌম্য দর্শন আর ছন্দময় প্রকাশ ভঙ্গিতে আমি অভিভূত হয়ে পড়লাম। অতীব বিনয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম - মহাত্মন - কেনো এত্তোসব ঝামেলা আমার জীবনে এলো এবং এর পরিণতিতে কি ই বা এমন অনন্য ভূবন পাবো। মাথার চুলকানী ও পেটের পুটপুটানীর মাজেজাই বা কি ? তাত্বিক পুরুষ হাসলেন - তারপর আমার মাথায় হাত রেখে বললেন - বৎস তুমি এক মহান বুদ্ধিজীবি হতে যাচ্ছ ! তোমার বুদ্ধির ঝলকে দেশের সব রাজা বাদশাহ চমকিত হবেন। তোমার বু্দ্িধর পরিমাণ এতো বেশি হবে যে তা মস্তিস্ক ছাড়িয়ে তোমার পেটের মধ্যে ঢুকে পড়বে। যে কোন সুস্বাদু খাবার পেটে ঢুকলে প্রথম প্রথম হজমে একটু গরল বা গরমিল হয়। তাই বুদ্ধির মতো মহামূল্যবান এবং অতি উপাদেয় জিনিস মাথার সীমা অতিক্রম করে পেটে প্রবেশ করলে পুটপুটানী অতি স্বাভাবিক। আমি শুনছিলাম এবং উত্তেজনায় ছটফট করছিলাম - বললাম - হুজুর ! বুদ্ধিজীবি হয়ে আমার লাভ কি ? তিনি এবার উচ্চস্বরে হাসলেন। পিঠ চাপড়ে আদর করে বললেন - অনেক লাভ। তুমি যদি প্রতিদান পেতে চাও আখিরাতে তাহলে নির্ঘাত বেহেশ্ত। আর যদি দুনিয়ার প্রতিদান একেবারে আশা না করো তবে মানুষের মাঝে তুমি অমরত্ব লাভ করবে ঠিক সক্রেটিস, প্লেটো, কনফুসিয়াস, শেখ সাদি কিংবা জালাল উদ্দিন রুমির মতো। কিন্তু তোমার জিহ্বা যদি রসালো হয়- তোমার ত্বক যদি নিত্য নতুন নরম জিনিসের আকাংখায় ইতি উতি করে কিংবা চোখ যদি কেবল বড় বড় ইট পাথরের সুরম্য অট্রালিকার দিকে নিবন্ধিত হয় - সেক্ষেত্রে তুমি পাবে ভিন্ন মাত্রার সফলতা। কেনো জানি বাকিতে কাজ কারবার আমি পছন্দ করিনা। আমার আব্বাও করতেন না। সবকিছুতে নগদ নারায়ন না হলে আমি অস্থির হয়ে পড়ি। মনের অভিব্যাক্তিকে গোপন রেখে আমি স্বপ্ন পুরুষের নিকট জানার চেষ্টা করলাম কিভাবে নিজের বুদ্ধিকে ব্যবহার করে নগদ ছগত কিছু পাওয়া যায় - প্রাপ্তির জায়গা যদি রাজ দরবার কিংবা বেশ্যালয় হয় তাতেও আমার কোন আপত্তি নেই। আমি শুধু চাই - টাকা, পয়সা, ধন-দৌলত, গাড়ী - বাড়ী, পদ পদবী, নারীসহ আরো সব ভোগের সামগ্রী। আমার খুব ইচ্ছে হয় দামী দামী মদ খেতে - কিন্তু গাঞ্জা, তাড়ি, চরস এসব একদম পছন্দ করি না। মাঝে মধ্যে বিনোদনের জন্য নাচ গান সঙ্গে একটু তাস-পাশা-জুয়া হলে মন্দ হয়না। ব্যক্তিগত জীবনে আমি গর্দভদের বাদশাহ। বুদ্ধি শুদ্ধি নিম্নমানের, বংশ ঠংশও ভালোনা, খারাপ কাজ করার খুবই ইচ্ছা কিন্তু সুযোগ না পাবার কারণে করতে পারিনি তেমন কিছু। তাই বদনামী এখনো আমাকে পেয়ে বসেনি। আমার অর্থবৃত্ত নেই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও অল্প। বছর খানেক আগে নীলক্ষেত থেকে একটি ডক্টরেট ডিগ্রীর ভূয়া সার্টিফিকেট যোগাড় করেছি। ওটা যে নকল তা প্রমাণ করার সাধ্যি কারো বাপের নাই। এরপর রাজ দরবারের কিছু কর্তা ব্যাক্তির তোষণ পোষণ করে ২/১ টা টেলিভিশনে বক্তা হিসেবে গেছি - আমার গলার স্বর মিনমিনে মেয়ে মানুষের মতো। ছোট কালে সহপাঠীরা আমাকে মিনমিনে শয়তান বলতো; আবার কেউ বলতো ম্যানা চোট্রা। সেই আমি নিজের অবদমিত মনে বুদ্ধিজীবী হবার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম তা এক অলৌকিক শক্তিবলে মনে হচ্ছে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে ! স্বপ্নের ঘোরে থেকেও আমি আমার লক্ষ্য স্থির করার বিষয়ে সিদ্ধ্ান্ত নিতে পারছিলাম। আমি স্বপ্ন পুরুষকে বললাম - হে মহা পুরুষ- আপনি শিখিয়ে দিন কিভাবে আমি আমার পান্ডিত্য জাহির করবো? কিভাবে আমি ক্ষমতাসীন লোকদের নিকট অতি চড়া মূল্যে আমার বুদ্ধি বিক্রয় করবো ? আমার পোষাক আশাক, চালচলন, বাচনভঙ্গি, চাহনী এবং আচার আচরন কিরুপ হবে? কিভাবে আমি ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি হবো ? কিভাবেই বা আমি তাদের সঙ্গে লেগে থাকবো কারন ওরা তো আগুনের মতো - কাছে গেলে পুড়িয়ে মারে। পান থেকে চুন খসলেই আর রক্ষে নেই - যে হাত দিয়ে ওরা আমাকে লালন করবে সেই হাত দিয়েই গলা টিপে মেরে ফেলবে ! আমার কথা গুলো শুনে তিনি মুচকি হাসলেন। তারপর বললেন ধৈর্য্য ধর বৎস - আমি তোমাকে সব কথা বলবো। শিখিয়ে দেবো সব কলা কৌশল এমনকি নারীদের পটানোর ব্যাপর স্যাপারও। তারপর তুমি সিদ্ধান্ত নেবে - আসলে তুমি কি করতে চাও বা আসলে তুমি কিছু করতে পারবে কিনা। যে কোন ভালো কাজ করতে যেমন জন্মগত ভাবে কিছু কিছু ভাল জিনিসের দরকার হয় তেমনি মন্দ কাজ করার জন্য দরকার হয় সেইরুপ বদ খাচলত। তুমি যে কাজ করতে চাচ্ছ তা হলো প্রতারণা, ভন্ডামী, মিথ্যাচার, মোনাফেকী, তেলবাজি, ভাওতাবাজি এবং অন্যকে বোকা বানিয়ে স্বার্থ হাসিল। এগুলো সবই মন্দ কাজ। মানুষ সহসাই মন্দ কাজ করতে পারে না। মন্দ কাজের খল নায়কের দুটো প্রধান গুনে গুনী হতে হয়। এক: তাকে অবশ্যই হারামজাদ হতে হবে দুই : তাকে হারাম খোর বা হারামী হতে হবে। আমার কথা শুনে তুমি হয়তো বিস্বয়ে তোমার চোখ গোল গোল করে ফেলেছো। কিন্তু আমি যদি সবকিছু খুলে বলি তবে তুমি বুঝতে পারবে এবং সেমতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। জীবনে অনেক লোক না বুঝে ভালো ভালো কাজ করে ফেলে- আবার তেমনি না বুঝেই মন্দ মন্দ কাজ করে থাকে। ফলে সেই সব লোক তাদের কৃতকর্ম গুলো হজম করতে পারে না এবং কর্মের ভারও বহন করতে পারেনা। এ কারনে লোক গুলোকে সারাজীবন আফসুসের সঙ্গে মর্মবেদনায় দিন গুজার করতে হয়। আমি চাই - তোমার জীবন যেনো ওরকম না হয়। হারামজাদা ও হারামী শব্দ দুটি শোনার পর আমার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো। তিনি বুঝতে পেরে বললেন- শান্ত হও বৎস ! তোমাকে ভালো করে জানতে হবে হারামজাদা এবং হারামী কাকে বলে ! সাধারণত পিতার অবৈধ সন্তানকে হারামজাদা বলা হলেও শব্দটির বহুমাত্রিক অর্থ রয়েছে। যে লোকের পিতা সারা জীবন হারাম কাজ করতো তাকে সহজেই হারামজাদা বলা যায়। এসব লোকের পক্ষে অনায়াসে, নির্দিধায় এবং অতি সহজে যেকোন খারাপ কাজ করা কোন ব্যাপারই না। অন্যদিকে হারামী বলা হয় তাকেই যে সর্বদা নিজেকে হারাম কাজে ব্যাপৃত রাখে - এক্ষেত্রে সে হারামজাদা না হয়েও দক্ষতার সঙ্গে হারামীপনা চালিয়ে যেতে পারে। বুদ্ধিমান হিসেবে নিজেকে তারাই প্রতিষ্ঠিত করে ক্ষমতাসীনদের নেক নজর লাভ করতে পারবে যারা অতি সতর্কতার সঙ্গে নিজের হারামীপনা গোপন রাখতে পারবে। মনে কুপ্রবৃত্তি আর উপরে উপরে ভালো মানুষীর ভোল তুলে এসব লোক হেলে দুলে এগিয়ে যায় কাঙ্খিত লক্ষের দিকে। এরা অদ্ভূত সব পোশাক পরে। অশালীন নয় তবে অদ্ভুত। এরা লম্বা লম্বা চুল রাখে। কেউ কেউ নিজের বিশেষত্ব দেখাবার জন্য চুলে ঝুটি বাঁধে। এদের কেউ কেউ বড় বড় মোচ রাখে এবং বাহারী সব মসলা দিয়ে মোচে তা দেয়। নকল বুদ্ধিজীবির প্রধান লক্ষ্য থাকে চমক লাগানো কথা বার্তা বলা এবং ব্যক্তি বিশেষ বা মহল বিশেষের পক্ষাবলম্বন করা। এই কাজ তারা করে কখনো আদিষ্ট হয়ে আবার কখনো করে কাঙ্খিত ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য। এরা প্রথমে একাকী ঘোরে এবং একাকী কর্ম করে। কিন্তু অতি অল্প সময়ের মধ্যে তারা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে যায়। স্বপ্ন পুরুষ এই পর্যন্ত বলে আমার দিকে তাকালেন। মনে হলো তিনি আমার অন্তরের কথা বুঝতে পেরেছেন। কারন এতক্ষন তার কথা শোনার পর আমার জানতে ইচ্ছে হচ্ছিল কিভাবে এবং কতো দ্রুত বুদ্ধি বিক্রি করে কিংবা বিবেক বন্ধক রেখে ক্ষমতাবানদের কাছাকাছি হওয়া যায় এবং স্বার্থ হাসিল করা যায় ? আমার মনের ভাব বুঝতে পেরে স্বপ্ন পুরুষ বললেন - তোমাকে নতুন কিছু করতে হবে। সব সময় একটা ভাব ধরে থাকতে হবে। তুমি যার দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাও তার পক্ষে এমন সব কথা বলতে হবে যা কেউ সচরাচর বলে না। তোমার বক্তব্য যদি তার কানে পৌঁছায় তবে সে তোমাকে ডাকবে। অন্য পথটি আরো সোজা কিন্তু একটু বেহায়াপনা থাকতে হবে। তুমি তার সঙ্গে খাতির কর যে কিনা কাঙ্খিত যায়গায় নিয়মিত যায় এবং পিঠা পায়েস খায়। এই কাজ করতে গিয়ে তুমি তোমার গুরুকে উপহার প্রদান করো। সবচেয়ে দামী এবং কার্যকর উপহার হলো - সুন্দরী স্ত্রী কিংবা কন্যা। ক্ষেত্র বিশেষে ভগ্নিও হতে পারে। সবই তো বুঝলাম কিন্তু বুদ্ধিজীবি হয়ে নারী পটাবো কেমনে ! স্বপ্ন পুরুষ বললেন আজ আর নয় অন্য একদিন। রাত এখন শেষ প্রহরের কাছাকাছি। কিছুক্ষন পর সুবহে সাদিক হয়ে যাবে। নিকটতম আসমানে রহমতের ফেরেশতারা চলে আসবে। কাজেই তার আগেই আমাকে চলে যেতে হবে। যাবার বেলায় বলে যাচ্ছি আমার কথা গুলো হয়তো তোমার স্মরনে থাকবে। তুমি চেষ্টা করতে থাকো। যদি সফল হতে পারো তবে আরো নতুন কিছু বলার জন্য আমি আবার আসবো। এরপর স্বপ্ন পুরুষ চলে গেলেন। আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। উঠে বসলাম। সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে যদিও দেশে শীতকাল চলছে। উঠে বাথরুমে গেলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম পেটে পুট পুটানী শুরু হয়ে গেছে। আনন্দে আত্মহারা হবার উপক্রম হলো। তাহলে সত্যিই কি আমি সিদ্ধি লাভ করেছি - সত্যিই কি আমি অলৌকিক ভাবে বুদ্ধিজীবি হয়ে গেছি। একথা ভাবতে ভাবতে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম - একি দেখছি আমি ! এই প্রতিচ্ছবি কি আমার না অন্য কারো ?
লেখক: সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট।

 

স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই

হঠাৎ করেই যেন দেশে খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রকাশিত হয়েছে ৩৩টি খুনের খবর প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে যশোরে যুবলীগ নেতা শিপনকে গুলি করে হত্যা; সাভার, খুলনা বিয়ানীবাজারে তিনজন খুন, চট্টগ্রামে পুলিশ খুন; বন্দুকযুদ্ধে দুই ঘাতক নিহত হওয়ার খবর শেষ পৃষ্ঠায় ভুরুঙ্গামারীতে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার খবর ভেতরের পৃষ্ঠায় ১৩ স্থানে ১৩টি খুনের খবর রয়েছে এসব খুনের খবরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত, সংঘর্ষ, হামলার খবরও ছাপা হয়েছে অর্থাৎ সমাজে সহিংস তৎপরতা সার্বিকভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এর অর্থ হচ্ছে, ভেঙে পড়ছে সমাজের সহনশীলতার সংস্কৃতি ভেঙে পড়ছে পরস্পরের ওপর আস্থাশীলতা এটি খুবই উদ্বেগজনক প্রবণতা পরস্পরবিরোধী দল, মত, পথ আদর্শের মানুষ মিলেই সমাজ গড়ে ওঠে বৈচিত্র্যই সমাজকে এগিয়ে নেয় সহজ কথায় বলা প্রয়োজন- মত থাকবে, দ্বিমত থাকবে, পক্ষ থাকবে, থাকবে বিপক্ষও কেউ যদি পক্ষ-বিপক্ষ, মত-দ্বিমতের ক্ষেত্রে শক্তিকেই সমাধান হিসেবে গণ্য করে, তখনই ঘটে বিপত্তি বর্তমানে দেশ সেই বিপত্তির সম্মুখীন যশোরে যুবলীগ নেতাকে হত্যা কিংবা সাভারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে হত্যা অসহিষ্ণু রাজনীতির আলামত রাজনীতির এই চেহারা কোনোভাবেই কারও কাম্য হতে পারে না অন্যদিকে জমিজমা আর্থিক লেনদেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও খুনের ঘটনা ঘটছে ভুরুঙ্গামারীতে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়ে খুনিরা জমিজমার দলিলপত্র নগদ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে কয়েক সপ্তাহ আগে একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের কৃতী আলোকচিত্রী ফটোসাংবাদিক আফতাব আহমদ খুন হয়েছেন তার বাসায় তার গাড়ির ড্রাইভারসহ খুনের সঙ্গে জড়িত অন্য চার খুনিকেও পুলিশ আটক করেছে খুনিরা তাকেও হত্যা করে অর্থলোভে আফতাব আহমদের খুনের সঙ্গে জড়িত খুনিদের পরিচয় পেয়ে যে কোনো সুস্থ মানুষই শিউরে উঠবেন হত্যাকারীদের বেশিরভাগই সিরিয়াল কিলার তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে হত্যা করেছে ভাড়াটে খুনি হিসেবে বিভিন্ন সময় এরা ধরাও পড়েছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে জেলও খেটেছে বিভিন্ন মেয়াদে এবং জেল থেকে বেরিয়ে এসে আবারও তারা জড়িয়ে পড়েছে ভাড়াটে খুনের পেশায় কারাগারগুলোকে সংশোধনাগার রূপে গড়ে তোলা লক্ষ্য হলেও সেগুলো অপরাধী সংশোধনের পরিবর্তে অপরাধীদের আরও দুর্র্ধষ হয়ে ওঠায় প্রেরণা জোগাচ্ছে দেশের কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা ২৯ হাজার, সেখানে বন্দির সংখ্যা ৭১ হাজারের বেশি অন্যদিকে কারাগারগুলো হয়ে উঠেছে মোস্ট ওয়ানটেড সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আবাস সেখান থেকে তারা নিরাপদে পরিচালনা করছে তাদের অপরাধ সাম্রাজ্য অপরাধীরা ক্রসফায়ারের ভয়ে কারাগার থেকে বেরুতে চায় না, কিন্তু সেখানে অবস্থান করে তারা নিজেরা চাঁদা না পেলে নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে মোবাইল ফোনে হুকুম দেয় অপরাধীরা প্রযুক্তির সহায়তায় এবং নানা পৃষ্ঠপোষকতা সহযোগিতায় খুনের পেশাকে শাণিত করে তুলছে ফলে মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে তুচ্ছ

সাম্প্রতিক দিলগুলোয় খুন-খারাবি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা সবারই অব্যক্ত দাবি হয়ে উঠেছে আমরা আশা করব, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী অস্বাভাবিক খুনের ঘটনার রাশ টেনে ধরতে উদ্যোগী হবে তারা মানুষের মূল্যবান জীবন রক্ষায় সাফল্যের পরিচয় দেবে

 
 

স্মৃতিতে ভূরুঙ্গামারীর সিএন্ডবি রোডের মুক্তিযুদ্ধ

ল্যান্স নায়েক (অব.)কাঞ্চন আলী, ই.বি. রেজিমেন্ট :
১৯৭১ সনের মে মাসের ২৫ তারিখে সুবেদার আবতাব কোং হতে ২৩ জনের একটা গ্র“প বাছাই করা হয়। এর নেতৃত্ব দিবেন ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন ( পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার ) এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন সুবেদার আবতার কমান্ডার, সেকশন কমান্ডার হাবিলদার খালেক, নায়েক মকবুল ও মুজাহিদ আবদুল মতিন ( তোতলা মতিন ) আমাদের কোম্পানীর সকলের বাড়ি বৃহত্তর কুমিল্যা জেলায়।  আমাদের ৩টা মুক্তি ফৌজের কোম্পানিকে আগরতলা হতে মে মাসের শেষের দিকে উত্তরবঙ্গের ৬নং সেক্টর রংপুর/দিনাজপুর সাব- সেক্টর (ক) পাট গ্রাম ও সাব- সেক্টর, (খ) সাহেবগঞ্জে যুদ্ধ করার জন্য সুবেদার আবতাবের অধিনে ভারতের দার্জিলিং পাঠানো হয়। ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার কুচলী বাড়ি সীমান্ত ঘেরা কালমাটি গ্রামে আমাদের হেড কোয়াটার স্থাপন করা হয়। ওখান হতে প্রায় এক মাইল ভীতরে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী থানার অন্তর্গত জয় মনিরহাট সংলগ্ন রায়গঞ্জ সিএন্ডবি রোডে রেকি পেট্রোল করতে যেতে হবে। রেকি পেট্রোল খবর সংগ্রহ করতে না পারলে ফাইটিং করে খবর সংগ্রহ ও শত্র“র অস্ত্রের খবর সংগ্রহ করে আসতে নির্দেশ দেয়া হয়। আমাদের ২৪ জনের সেকশনকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয় ঃ
(ক) একশন পার্টি কমান্ডার, ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন, এবং সুবেদার বুরহান উদ্দিন (আর্মি)।
(খ) কাটাব পার্টি ৮ সদস্য- কমান্ডার, সুবেদার আবতাব, ই,পি, আর বাম দিয়ে ভূরুঙ্গমিারী নাগেশ্বরী রোডে চলে যাবে।
(গ) হাবিলদার খালেকের নেতৃত্বে ৮ জনের সাপোটিং পার্টি, ভূরুঙ্গামারী বামে রেখে ডানে সুবিধাজনক স্থানে পজিশন নিয়ে থাকবে। ডান দিকের পজিশনে রাখা হবে সাপোর্টিং পার্টি হিসেবে আমাদেরকে। সকাল ১০টার মধ্যে ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন আমাদের ২৪ সদস্যকে মৌখিক নির্দেশাবলি দিলেন।  আমি ও হাবিলদার আনিছ মোল্লা কেবল বরিশালের ২জন সদস্য বাদে বাকি সবাই বৃহত্তর কুমিল্যা, নোয়াখালী , ফেনী ও ঢাকার হাবিলদার খালেক ( কসবা কুমিল্লা ), সুবেদার আবতাব ( কোম্পানীগঞ্জ, কুমিল্যা ), নায়েক মকবুল ( উলিপুর কুড়িগ্রাম ), সিপাহী জয়নাল   ই.পি. আর ( ফেনী ), সিপাহী মতিন ( তোতলা মতিন )  ( বাঞ্চারামপুর কুমিল্লা ), সিপাহী চেরাগ আলী ( মন্দবাগ বি-বাড়িয়া ) সিপাহী সুলতান ( ফেনী ) তার কাছে এল. এম. জি , হাবিলদার খালেকের কাছে এস. এম. জি, এবং সিপাহী জয়নালের কাছে জি থ্রী চায়না রাইফেল ও আমাদের সকলের নিকট ছিল থ্রী নট থ্রী মার্ক ফোর ও মার্ক থ্রী রাইফেল এবং ৩৬ হেন্ড গ্রেনেড, জি-থ্রী চায়না রাইফেল এবং বুকে ঝুলানো গোটা তিনেক গ্রেনেড। ক্যাপ্টেন নওয়াজেশের ২৫ মার্চ হতে অসংখ্য সম্মুখ এবং গেরিলা একশনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার সুদক্ষ, তেজী, সাহসী, দুর্বার, মনোবল ও তড়ীৎ আক্রমনকারী এবং অসংখ্য সম্মুখ যুদ্ধ ও ঝটিকা আক্রমনের ৬নং সেক্টরের মূল নায়ক এবং ৬নং সেক্টরের সাব-সেক্টর ২ এর কমান্ডার ছিলেন দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত। ১৯৮১ সনে সেনা বিদ্রোহের অভিযোগে এই মহা যোদ্ধাকে  ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হয়। তার নেতৃত্বে রেল লাইনের উপর দিয়ে জিগ-জাগ ভাবে পদব্রজে ভারতীয় ভূখন্ড কালামাটি হতে বের হয়ে রেল লাইন ধরে ভূরাঙ্গামাটির দিকে সবাই চললাম। চলার পুর্বে যার যার অস্ত্র পরিস্কার ও ফুলতুরু মেরে ব্যারেল পরিস্কার করে নেওয়া হয়েছিল। যা হোক ২০ মিনিটের মধ্যে পুর্বের নির্দেশ মোতাবেক যার যার ভাগ করা ট্রপ নিয়ে রওয়ানা দেই। আমরা হাবিলদার খালেকের ( ই.পি. আর ) এর অধীন ভূরাঙ্গামারীর ভীতরে ভারত হতে যাওয়া রেল লাইনের উপর দিয়ে সোজা ডানে চলে গিয়ে অনেক ভীতরে একেক জন প্রায় ১০০ গজ দুরে দুরে উঁচু টিলায় দক্ষিনমুখি সিএন্ডবি রাস্তার দিকে পজিশন নিয়ে আছে। রাইফেল লোড করা আমাদের ৭ জনকে পজিশনে দিয়ে খালেক ভাই আমাদের পিছনে সতর্ক দৃষ্টি নিয়ে কমান্ডার নওয়াজেশ উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছে। ওদিকে সুবেদার আবতাবের ৮ জনের কাটাব পার্টি নিয়ে রেকি করার জন্য রেল লাইন ধরে বায়ে চলে গেছে এবং ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ সাহেব তাঁর একশন পার্টি ও এল.এম.জি ম্যানসহ মাঝের সারিতে রয়ে গেলেন। এই ভাবে আমরা প্রায় ২-৩ ঘন্টা পজিশনে রইলাম। বেলা আনুমানিক ০১ টার সময় পাক বাহিনীর ঘাঁটি হতে আমাদের উপরে এক নাগাড়ে এল.এম.জি, রাইফেল ও মেশিনগানের গুলি বর্ষণ শুরু হল এবং কিছুক্ষন পরে আন্ধারী ঝাড় হতে পাক বাহিনী ৩ মর্টারের গোল বর্ষণ শুরু করে। এক নাগাড়ে থেমে থেমে ৩০ মিনিটের মত প্রচন্ড গোলাগুলি চলে। হাবিলদার খালেক হাফাঁতে হাফাঁতে দৌড়ে এসে আমাদেরকে বলল, আর একটিও গুলি ছুড়বে না। কারণ, আমাদের গুলির সংখ্যা ছিল সীমিত। হাবিলদার খালেক ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিনের নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। আমাদেকে প্রত্যাহার করে পিছনে নিয়ে যাবে। কিন্তু পাক বাহিনীর মেশিনগানের বিরামহীন ফায়ারের জন্য আসতে পারছেন না। আমাদের সুবেদার আবতাবের এক জন সিপাহী মোসলেম। তার ডান হাতের কব্জিতে গুলি লেগে আহত হয়েছে বলে জানতে পারলাম। এদিকে আমার বাম পাশ্বের পজিশনে থাকা তোতলা মতিন লম্বায় প্রায় ৬ ফুট, বয়স প্রায় ৪০ ভারী দেহ। তাকে পজিশনে দেখা যাচ্ছে না। আমাদের লোকজনকে দেখা যাচ্ছে না। যে যেভাবে পারছে হয়ত ছত্রভঙ্গ হয়ে পিছনে চলে গেছে। নয়তবা এদিক সেদিক নিরাপদে আড় নিয়ে আছে। পাক বাহিনীর প্রচন্ড গোলাগুলির ভিতরে আমাদের কমান্ডার হাবিলদার খালেক সাবকেও পাচ্ছিনা । মনে মনে ভাবলাম, এবিপদে আমাদের ফেলে সবাই পিছনে ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে গেছে।  হঠাৎ দেখি আমাদের ডানে, বামে, পিছনে ট ুইঞ্চি মর্টারের গোলা পড়ছে আর প্রচন্ডভাবে বিস্ফোরিত হয়ে আমার কানের পাশ দিয়ে মাথার উপর দিয়ে শোঁ শোঁ শব্দ করে ডানে-বামে পড়ছে। এমনি সময় হঠাৎ কানে শুনতে পেলাম, তোতলা মতিন কুমিল্যার আঞ্চলিক ভাষায় প্রচন্ড কান্নাকাটি করছে এবং ‘ওরে আল্যা, আল্যারে, বাঁচাও, বাঁচাও করে বিলাপ করছে। আরও বলছে,  ওরে ভাই আমারে বাঁচাও। এমনি সময় এক মুহুর্ত দেরী না করে আমি প্রচন্ড গোলাগুলির ভিতর নিজের জীবনবাজি রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। অনুভব করলাম এবং দেখলাম, পাক বহিনী আমার ৫০০ গজ সামনে বড় একটা গাছের উপর মাচাং বানিয়ে তার উপর একজন লোক বসে বাইনিকুলার দিকে সামনে দেখছে এবং ডানে-বামে এত ডিগ্রি এত ডিগ্রি বলে নির্দেশ দিচ্ছে। আর নিচ হতে টু-ইঞ্চি মর্টারের গোলা ছুটছে। টু-ইঞ্চি মর্টারের একটা নিয়ম হল গোলা ছুড়ার সময় ছোট্ট একটা আওয়াজ হয় এবং একটু পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরন ঘটে। তাই আমি যখন গোলা ছোঁড়ার ছোট্ট শব্দ শুনতে পাই তখন মাটিতে শুয়ে পড়ি। আমার ডানে-বামে ঐ সময় অসংখ্য ট ইঞ্চি মর্টারের গোলা এসে পড়ে এবং বিস্ফোরিত সেলের টুকরোগুলো মাথার উপর কানের কাছ দিয়ে শোঁ শোঁ শব্দ করে উড়ে যায়। ঐদিন ঐসময় জীবনে বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। তবুও জীবনকে তুচ্ছ করে তোতলা মতিনকে বাঁচাতে গিয়ে আল্যাহর অশেষ রহমতে জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পারি। তবে অনেক কষ্ট হয়েছিল। সেই কষ্ট আমি ছাড়া এজগতে কেউ জানে না। জানেন এক মাত্র আল্যাহ রাব্বুল আলামিন। তবুও শত শত গোলাগুলি ও সেলের আওয়াজ উপেক্ষা করে যখন আহত মতিনের কাছে গিয়ে পৌছালাম, তখন আরেক দৃশ্য। আহত তোতলা মতিন আসলেই বোকা মনে হল। মতিন আগা-গোড়া কিছূ না ভেবে, না দেখে পাক বাহিনীকে ৫০০ গজ পিছনে রেখে সম্ভবত একটু উঁচু জায়গায় হালকা ঝোপের আড়ালে পায়খানা করতে বসেছিল। যখন আমি তার কাছে গেলাম তখন সে স¤পূর্ণ দিগস্বর অবস্থায় ছিল। তার সম্পূর্ণ শরীর ২ ইঞ্চি মর্টারের সেলের টুকরা ও বারুদে ঝলসে গেছে। প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল। আমি কোনো মতে তার রাইফেলটা আমার গলায় ঝুলিয়ে ২টি রাইফেল একত্রে নিয়ে যখন তাকে সম্পুর্ন দিগস্বর অবস্থায় উঠায়ে ২/৩ কদম পিছিয়ে যাই, তখন পাক বাহিনী আমাদের টার্গেট করে টু ইঞ্চি মর্টারের গোলা মারছে।
যখন ছোট্ট আওয়াজ পাই, তখন দু‘জন সাথে সাথে মাটিতে শুইয়া পড়ি। এমনিভাবে প্রায় আধা ঘন্টা জীবন মরনের খেলা মারাত্মক আহত ব্যাক্তিদের আহত মতিনের লাল রক্তে আমার পরীধানের মুক্তিবাহীনির দেয়া তিন পকেট ওয়ালা শার্ট, গামছা, লুঙ্গি, জুব-জুবো হয়ে যায়। এমনি সময় পিছন থেকে হাবিলদার খালেক, নায়েক, মকবুল, আরো কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধা অতিদ্রুত এসে প্রচন্ড মর্টারের গোলার ভীতর হতে আমাদেরকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। তারপর ভারতীয় এলাকার তোতলা মতিন একজন মধ্য বয়স্ক মোজাহীদ বাহিনীর সিপাহী। আমার বাবার বয়সী, কিন্তু তার বিশাল দেহ নিয়ে আমি বড় সমস্যায় পড়েছিফলাম। আমি মাত্র ১৫/১৬ বৎসরের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা এবং দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। তারপর মতিনকে ভারতীয় সামরিক এম্বুলেন্স করে নিয়ে যাওয়া হয় জলপাই গুড়ির বাগডুগরা ক্যান্টনমেনন্টের ১৫৪ সামরিক হাসপাতালে। তারপর আর মতিনের সাথে মুক্তিযুদ্ধ চলা অবস্থায় আর দেখা হয়নি। মনে করেছিলাম সে হয়তো শহীদ হয়েছে। মতিনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন, সুবেদার আবতাব, সুবেদার বুরহান আমাকে সাবাস সাবাস বলে বাহবা দিলেন, এবং বেচেঁ থাক বলে দোয়া করলেন। আমর নাম সেক্টর হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হল। ঐদিন হতে আমাকে সাত দিন রেষ্ট দেয়া হল। আমি ঘটনার দিন হতে ৩ দিন পর্যন্ত ঠিকভাবে কিছুই খেতে পারিনি। কারণ মতিনের চাপ চাপ রক্তে আমার স¤পূর্ণ শরীর রঞ্জিত হয়েছিল। এবং বাসি রক্তের যে বিশ্রী গন্ধ, আমি ভাবতেও পারি নাই। মানুষের রক্তের এত বিকট গন্ধ এক মাত্র আল্যাহ জানে, তবুও মতিন বেচেঁ আছে। আল্যাহর দরবারে শোকরিয়া। কিন্তু না, দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ২ মাস পর ফেব্র“য়ারী মসের ১৯৭৩ইং সনে রংপুর সেনানিবাসে নবগঠিত ১৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট দেখা গেল সে র্খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে আমাকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ ও কান্নাকাটি করতে লাগল। এবং বার বার বলছে তুমি না থাকলে আজ আমি স্বাধীন বাংলাদেশ থাকতাম না। আর আমার চোখ দুটি ছলছল করে উঠল। আর মতিনকে বলিলাম, ভাই সে তো মে মাসের ঘটনা। তারপর আরো ৫ মাসে অসংখ্য পাক বাহিনীর আক্রমন, পাল্টা আক্রমন এবং দীর্ঘ ৯ মাসের সম্মুখ যুদ্ধে অনেক সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি। তবুও আল্যাহর অশেষ রহমতে বেঁচে আছি। তুমিও বেঁচে আছো আল্যাহর দরবারে হাজারা শোকরিয়া আদায় করি। আমি লক্ষ্য করলাম মতিনের বুকের উপর বীর প্রতীক খেতাব খানা জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। আর আমি? বীর প্রতীক পাইনি। তবুও মুক্তিযুদ্ধের উপর ৪ খানা খেতাব পেয়েছি। তবে মতিনের মত বীর প্রতীক নয়।
আজ আমার স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন জাতি। আমাদের একটি স্বাধীন পতাকা, একটা স্বাধীন মুদ্রা, একটা স্বাধীন সেনাবাহিনী। কামনা করি, লক্ষ শহীদের আত্মার মাগফিরাত। প্রয়াত বঙ্গবন্ধুর বিদেহি আত্মার শান্তি কামনা করছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
লেখাটি সংগ্রহ করেছেন শেখ মনির হোসেন (মনির)
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
এনিউজ ২৪.নেট

 
 

একটির জবাবে ১০ গুলি করতে বললেন ছাত্রলীগ সম্পাদক

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেছেন, ২৯ ডিসেম্বর (আজ) বিএনপির আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করতে বরাবরের মতো এবারও ছাত্রলীগ মাঠে থাকবে। তারা যদি একটি গুলি করে, ছাত্রলীগ ১০টি গুলি করবে। এর প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে থাকবে ছাত্রলীগ। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগরের এক বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন তিনি।
সিদ্দিকী নাজমুল আলম আরও বলেন, বিএনপি যে সাংঘর্ষিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, আমরা জানি সে আন্দোলনে বিএনপি নয়, মাঠে থাকবে জামায়াত-শিবির। তাই তাদের সম্পূর্ণ প্রতিহত
করা হবে। ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস বলেন, বিএনপির কর্মসূচি কিভাবে প্রতিহত করতে হয় ছাত্রলীগ মাঠে থেকে তা বুঝিয়ে দেবে। প্রত্যেক এলাকায় পাহারা বসানো হবে। ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা বলেন, রাজাকারের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিতে দেবো না। খালেদা জিয়াকে রাজাকারদের সঙ্গে পাকিস্তানে পাঠাতে ছাত্রলীগই যথেষ্ট। বিএনপি রোববার সমাবেশ কিভাবে করে তা দেখবে ছাত্রলীগ। এ সময় বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরীর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 
 

বাধা দিলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: খালেদা

স্টাফ রিপোর্টারঃ ২৯ ডিসেম্বরের গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচিতে কোনো রকম বাধা দিলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, তার ঘোষিত গণতন্ত্রের অভিযাত্রা ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে। বুধবার রাতে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুভ বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সরকার গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচিতে বাধা দিতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার হয়তো আমাদের অবরুদ্ধ করবে, কর্মসূচি পালন করতে দেবে না। যদি না দেয়, তার পরিণতি হবে আরো ভয়াবহ, আরো কঠিন, আরো করুণ।”  এর জন্য  প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সবাইকে গণতন্ত্র অভিযাত্রায় যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমিও আপনাদের সঙ্গে থাকব।”
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ফজলে এলাহী আকবরসহ বেশ কয়েকজন নেতা গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। তবে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. আর এ গণি, আর এ গণির পিএস লেনিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসম্পাদক প্রফেসর আমিনুল ইসলাম ও আরো দুজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খালেদা জিয়া বলেন, “বড়দিনের উৎসবের জন্য আমরা কর্মসূচি রাখিনি, যাতে খ্রিস্টান সম্প্রদায় আনন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারে। খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে তার শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় দলের কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত না থাকার বিষয় উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপরসন অভিযোগ করেন, “আজকে এখানে কোনো নেতাকর্মী আসতে পারেননি; কারণ তাদের আসতে দেয়া হয়নি। আমার বাসার সামনে পুলিশ দেয়া হয়েছে। আপনাদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এর নাম কি গণতন্ত্র? আমরা অনুষ্ঠান সমাবেশ করতে পারব না। আমরা কোন দেশে বাস করছি!” বর্তমান সরকার  গণতান্ত্রিক সরকার নয় এবং এই সরকারের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করে তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, “ আমরা চেয়েছি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন । কিন্তু তারা (সরকারি দল) তা চায় না।  তারা আসন ভাগ-বাটোয়ারা করছে।” নির্বাচন কমিশন তার ভূমিকা পালন করতে পারেনি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিল সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণনযোগ্য নির্বাচন করার। কিন্তু তারা তা না করে সরকার যা বলছে, তারা সেটা পালন করছে। নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ, মেরুদণ্ডহীন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বড়দিন শান্তির দিন। কিন্তু আজকে শান্তি কোথায়। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যই আমরা আন্দোলন করছি। শান্তির জন্যই আমাদের সংগ্রাম। খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার যদি দেশের কল্যাণ চায়, দশম  জাতীয় সংসদের তফসিল স্থগিত করে আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি, তাতে সংশোধনী আনার সুযোগ এখনো আছে।  তাতে নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে পারে। ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “এটা ডিসেম্বর মাস। উৎসবের মাস। সে জন্য আমরা সারা দেশ থেকে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছি।” কিন্তু সরকার আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দিতে চায়। কিন্তু তারা (সরকারি দল) যদি তাদের অফিসের সামনে মিটিং করতে পারে, তাহলে আমরা কেন করতে পারব না? বিরোধী দলের অফিসের সামনে কেন পুলিশ থাকবে?” এক দেশে দুই আইন চলতে পারে কি না  প্রশ্ন রাখেন তিনি। আওয়ামী লীগ বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মারছে দাবি করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, “তারা বাস পোড়াচ্ছে, আর নাম দিচ্ছে আমাদের। সরকার নিজে এসব করছে, আর আমাদের নেতাদের নামে মামলা দিচ্ছে। এটা নতুন নয়। ৯৬ সালেও তারা এমনটা করেছে। তখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেছে। তখন তো তারা বলে নাই এ দাবি অসাংবিধানিক দাবি। তারা সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় সংবিধান সংশোধন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই আমরা বলেছি, আমরা নির্বাচিত হয়ে সংবিধান সংশোধন করে আবার নির্বাচন দেব। আমরা সেই কথা রেখেছি। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার গুম করছে, হত্যা করছে, মানুষ মারছে। সাতক্ষীরায় বাড়িঘর পুড়িয়েছে; বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। মেয়েদের ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। যুবকদের ধরে নিয়ে গুম করা হচ্ছে। তাদের হত্যা করে ফেলা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান নেতারা বিএনপির চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।  চলমান আন্দোলনের পাশাপাশি ২৯ ডিসেম্বরের গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়  অংশগ্রহণ করবে বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বক্তারা। খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিবেচনা করার অনুরোধ জানান তারা। সংরক্ষিত মহিলা আসন, বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে খ্রিস্টানদের মধ্যে থেকে প্রতিনিধি নির্বাচনের দাবি জানান তারা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলবার্ট পি কস্তা, আর্চ বিশপ ফলিনিউস কস্তা, ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট জন গোমেজ, ধর্মগুরু ফাদার আলবার্ট রোজারিও, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সভাপতি মৃগেন হাগিদক, অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাইকেল,  অঞ্জন খিসান, যুব বিষয়ক সম্পাদক ডেভিট রোজারিও প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

 
 

নির্বাচন হলে বৈধতা হারাতে পারে সরকার : ইকোনোমিস্ট

স্টাফ রিপোর্টারঃ বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা দেশে ও বিদেশে বৈধতা হারাতে পারে  বলে মন্তব্য করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য ইকোনোমিস্ট। বৃহস্পতিবার ‘দ্য ক্যাম্পেইন ট্রেইল: দ্য রুলিং পার্টি উইল উইন বাংলাদেশ’স ইলেকশন। দ্য কান্ট্রি উইল লস’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে আওয়ামী লীগ জিতবে। ৫ জানুয়ারি যাই ঘটুক, অনেক এমপিরাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শপথ নিবে। কিন্তু কার্যত এ সরকার দেশে ও বিদেশে বৈধতা হারাতে পারে। একজন ইউরোপীয়ান কূটনৈতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এক ধরনের অভ্যূত্থানের মতোই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে বলা হয়, ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বিএনপি বয়কট করেছে। তাই শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে বৈধতার ব্যাপারটি নিয়ে। চলমান সহিংসতার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ অধিক লোক প্রাণ হারিয়েছে। সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকর করার পর।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনগণের কাছে অপ্রিয় শেখ হাসিনা সরকার দেশের বৃহৎ অংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাজপথেই রাজনীতি পরিচালনা করছে। দলটি একের পর এক অবরোধ দিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। বিএনপির শরীক দল জামায়াত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সংগ্রাম করছে।
প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি গুলি করছে এখন। ১৬ ডিসেম্বর জামায়াত অধ্যূষিত ভারতীয় সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৫ জামায়াত সমর্থককে হত্যা করেছে। উত্তরে জামাতের যুব শাখা (ছাত্রশিবির) হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি, দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে। লীগের ক্যাডাররা এলাকা ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় পালিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, লোকজন বলতে শুরু করেছে যে প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের পুরো নেতৃত্বকে ফাঁসিতে ঝুলাতে চান। খুব কম লোকই মনে করে বিচারকরা স্বাধীন। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী শেখ হাসিনাকে ফাঁসির রায় কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সমঝোতা তার স্টাইল নয়। সরকার নিরপেক্ষ নয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এ সরকার জয় লাভ করে। ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন বাতিল করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজেকে নিরপেক্ষ সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।  এ অবস্থায় নির্বাচন হলে তা লজ্জাজনক হবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো এটা অবশ্যই একটা লজ্জাজনক নির্বাচন হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪ টি তে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা নাই। বিএনপি এবং জোটের ১৭ ছোট দল নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচন বর্জনের জন্য তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্র্টির সাবেক সেনা শাসক এরশাদকে আটক করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে সরকার। তারপরের বৃহৎ দল জামায়াতকে সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে।

 
 

রাজপথে জনবিস্ফোরণ ও আওয়ামী-বাম গণমাধ্যমের মিডিয়াসন্ত্রাস

অলিউল্লাহ নোমান : টানা অবরোধে রাজধানী কার্যত বিচ্ছিন্ন। এই আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে চলছে মিডিয়া ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ভারতের তাঁবেদার আওয়ামীপন্থী মিডিয়াগুলো অবরোধের নেতিবাচক সংবাদ প্রচারণায় লিপ্ত শুরু থেকেই। তাদের নেতিবাচক প্রচারণা থেকেই স্পষ্ট রাজধানীর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রেল যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। সড়কপথে সরকার মরিয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে। পরিবহন মালিকদের চাপ দেয়া হয়েছে গাড়ি রাস্তায় নামানোর জন্য। ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ দেয়ারও আশ্বাস দেয়া হয়েছে মালিকদের। তারপরও রাস্তায় গাড়ি নামানো সম্ভব হচ্ছে না। দূরপাল্লার কোনো গাড়ি রাস্তায় নেই। পুলিশ পাহারায় রাজধানীর ভেতরে কিছু গাড়ি চালানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে। এর মধ্যেই আবার ঢাকায় পেট্রল বোমার নাশকতা।

Read more...

 
 

না ভোটের বিধান চেয়ে রিট

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশেনাভোটের বিধান সংযোজনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর রোববার সকালে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার মজিদ অ্যাডভোকেট রোকন উদ্দিন মোহাম্মাদ ফারুক সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন

রিটে মন্ত্রিপরিষদের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কমিশনের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে

বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে বেঞ্চে বিষয়টির ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রেদোয়ান আহমেদ রানজিব

এর আগে গত অক্টোবর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে না ভোটের বিধান সংযোজন করতে বিবাদীদের একটি আইনি নোটিশ পাঠান এই দুই আইনজীবী নোটিশের জবাব না পাওয়ায় রিটটি করা হয়

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতোনাভোটের বিধান রাখা হয় সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন গণতন্ত্রের স্বার্থে না ভোটের বিধান পুনরায় সংযোজন করা উচিত বলে মনে করেন রিট আবেদনকারীরা

 
 

শাহ জুলফিকার হায়দার, পিইঞ্জ এর কি- নোট স্পীকার হিসাবে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য “ফার্ষ্ট ইন্টারন্যাশনাল কোল কনফারেন্সে (ওঈঈ-২০১৩)” এ অংশ গ্রহণ


স্টাফ রিপোর্টার॥ নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জনাব শাহ জুলফিকার হায়দার, পিইঞ্জ এর কি- নোট স্পীকার হিসাবে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য “ফার্ষ্ট ইন্টারন্যাশনাল কোল কনফারেন্সে (ওঈঈ-২০১৩)” এ অংশ গ্রহণ।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জনাব শাহ জুলফিকার হায়দার, পিইঞ্জ অদ্য ০৭ থেকে ০৯ নভেম্বর/২০১৩ইং পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য “১ংঃ ওঘঞঊজঘঅঞওঙঘঅখ ঈঙঅখ ঈঙঘঋঊজঊঘঈঊ (ওঈঈ২০১৩)” হিসাবে অংশ গ্রহন করবেন। তিনি গতকাল ০৬/১১/২০১৩ইং পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। অদ্য ০৭ থেকে ০৯ নভেম্বর পাকিস্তানে গবযৎধহ টহরাবৎংরঃু ড়ভ বহমরহববৎরহম ্ ঃবপযহড়ষড়মু লধসংযড়ৎড়. ঝরহফয. এ অনুষ্ঠিতব্য ঐ কনফারেন্সে তিনি বর্নিত বিষয়ে কি-নোট স্পীকার হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরী পেপার উপস্থাপন করবেন। উক্ত কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, চীন, তুরস্করে বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের অভিজ্ঞ প্রতিনিধিগণ ও শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশ গ্রহন করবেন।
তিনি গত ১০ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ভারতের নয় দিল্লিতে অনুষ্ঠিত “দি থার্ড ওয়ার্ল্ড স্মার্ট গ্রীড কনফারেন্স, ইন্ডিয়া উইক” এ স্পীকার হিসাবে অংশ গ্রহণ করেন এবং “ঝসধৎঃ ঞবপযহড়ষড়মু ভড়ৎ ঝঁংঃধরহধনষব ঊষবপঃৎরপরঃু ঝঁঢ়ঢ়ষু” বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরী পেপার উপস্থাপন করেন।
ইতোপূর্বে জেনারেল ম্যানেজার জনাব শাহ্ জুলফিকার হায়দার, পিইঞ্জ এপ্রিল/১২ তে বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত “ঞযব ঊহবৎমু ঊভভরপরবহপু এষড়নধষ ভড়ৎঁস”শীর্ষক কনফারেন্সে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রতিনিধি ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে অংশ গ্রহন করে কারিগরী পেপার উপস্থাপন করেন এবং চলতি বছর সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত “ঊহবৎমু গধহধমবসবহঃ ঝুংঃবস (ওঝঙ ৫০০০১:২০১১)” শীর্ষক প্রশিক্ষনে সরকারী উচ্চ পর্যয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে অংশ গ্রহন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কি-নোট স্পিকার ও প্রশিক্ষক হিসাবে আমেরিকা, জাপান, বেলজিয়াম, চীন, ভারত, মরক্কো, নেপাল, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।
ইতোপূর্বে তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অবদানের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম সেরা কর্মকর্তা নির্বাচিত হওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাকে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন। তিনি পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের একমাত্র জেনারেল ম্যানেজার যিনি দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সাশ্রয় সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। তিনি পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের একমাত্র প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার।
*  সাম্প্রতিক সময়ে তিনি গত ১০ থেকে ১২ সেপ্টম্বর/২০১৩ইং ভারতের নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত “দি থার্ড ওয়ার্ল্ড স্মার্ট গ্রীড কনফারেন্স, ইন্ডিয়া উইক” এ স্পীকার হিসাবে অংশ গ্রহন করেন।
*  গত জুন/২০১৩ইং তারিখে এনার্জি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কোর্সের (ওংড় ৫০০০১:২০১১) সেমিনারে অংশ গ্রহনের জন্য সিঙ্গাপুর গনম করেন।
*  গত এপ্রিল/২০১৩ইং তারিখে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন এনার্জি ইফিসিয়েন্সি গ্লোবাল ২০১১ ফোরামে এক্সিকিউটিভ ডায়ালগ স্পিকার হিসেবে অংশ গ্রহনের জন্য বেলজিয়াম গমন করেন।
*  সামিট ২০১১ অন স্মার্ট টেকনোলজি/এনার্জি ইফিসিয়েন্সি বিষয়ক সেমিনারে অংশ গ্রহনের জন্য আমেরিকা গমন করেন।
*  আজীবন ফেলো- বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিষ্টিটিউশন এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি।
এছাড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে তিনিই একমাত্র সার্টিফাইড এনার্জি অডিটর (ঈঊঅ)

 
 

খালেদা জিয়ার প্রস্তাব যেভাবে সংবিধানসম্মত

টাফ রিপোর্টার: বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৫+৫+১ ফর্মুলার নির্বাচনী সরকারকে ‘সংবিধান পরিপন্থি’ আখ্যা দেয়ায় সংবিধান বিশারদদের অনেক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলেছে, বেগম খালেদা জিয়া ২০ জন উপদেষ্টা থেকে মনোনীত ১০ জনকে সংসদ ভাঙার আগে নির্বাচিত করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা অবশ্যই সংবিধানসম্মত। এই প্রস্তাবের বিষয়ে এর আগে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসিকে ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সংবিধানের বর্তমান কাঠামোর মধ্যেও সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তারা এমনকি ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য নাকচ করে বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন হোমওয়ার্ক করেই তবে এ ফর্মুলা দিয়েছেন। যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেন, খালেদা জিয়া হোমওয়ার্ক করেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি অবশ্য উপদেষ্টাদের মারা যাওয়া বা অনেকের রাজি না হওয়াকে চিহ্নিত করেন। তবে বিএনপি ও নির্দলীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যারা এখন উপনির্বাচনের মাধ্যমে জিতিয়ে আনার ধারণাকে সংবিধান পরিপন্থি বলছেন তারাই এ বিষয়ে এর আগে নসিহত করেছিলেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিক উল হক জিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সমঝোতা হলে উপনির্বাচনে তাদের জিতিয়ে এনে সরকার করা সম্ভব। অথচ তাঁর বরাতে এখন খবর ছাপা হচ্ছে যে, রফিক-উল হক বলেছেন, সংবিধান সংশোধন ছাড়া খালেদা জিয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রস্তাব সংবিধান পরিপন্থি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়েই নির্বাচনী সরকার গঠন করতে হবে। অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠন করা যাবে না।’ অথচ খালেদা জিয়া অনির্বাচিতদের নিয়ে সরকার গঠনের পরামর্শ দেননি। উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া সংসদ ভেঙে দেয়ার আগে উপদেষ্টাদের নির্বাচিত করতে বলেছেন। সংসদ ভাঙার অর্থাৎ আগামী ২৪শে জানুয়ারির আগ পর্যন্ত সেই সুযোগ পাওয়া যাবে। সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ মতে সংসদ সদস্যরা কোন সময় ‘স্পিকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে’ পদত্যাগ করতে পারেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতিত অন্য কোন কারণে সংসদের কোন সদস্য পদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত শূন্য পদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাই সংসদ ভেঙে যাওয়ার আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের ২০ উপদেষ্টা থেকে মনোনীতদের নির্বাচিত করে আনতে বলেছেন।  রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ৫৬ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে পারেন। এই অনুচ্ছেদ বলেছে, ‘সংসদ ভেঙে যাওয়া এবং সংসদ সদস্যদের অব্যবহিত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী নিয়োগের প্রয়োজন দেখা দিলে সংসদ ভাঙিয়া যাইবার অব্যবহিত পূর্বে যাহারা সংসদ সদস্য ছিলেন এই দফার উদেশ্য সাধন কল্পে তাহারা সদস্য রূপে বহাল রয়েছেন বলিয়া গণ্য হইবেন। প্রেসিডেন্ট, স্পিকার ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন তিনটি আলাদা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথাই সংবিধানে পৃথকভাবে উল্লেখ আছে। এ কারণে খালেদা জিয়া বলেছেন, তাদের মতোই একটা নির্বাচন করা যায়। এজন্য সংসদ চাইলে নতুন করে একটা আইন করতে পারে। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী ভারতে অনির্বাচিতরা কোন ভোটে অংশ নেয়া ছাড়াই অনধিক ৬ মাস মন্ত্রিত্ব করতে পারেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং লোকসভার সদস্য না হয়েও এমনকি লোকসভার নির্বাচনে প্রার্থী না হয়ে নির্বাচনকালে প্রধানমন্ত্রীর পদে ছিলেন। ব্যারিস্টার রফিক উল হক ইতিপূর্বে টিভি টক শো-তে যুক্তি দিয়েছেন যে, ব্রিটেনে দুই বড় দলের সম্মতিতে উপনির্বাচন হয়ে থাকে। স্পিকারও সেভাবে নির্বাচিত হন। সেখানে দুই বড় দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না। সুতরাং উপনির্বাচনে জয়ী করে আনাটা সংসদীয় গণতন্ত্র বিরোধী কোন ফর্মুলা নয়।

 
 

বহু দলীয় গণতন্ত্রের জন্য দরকার বহু দলীয় মিডিয়া

শফিক রেহমান
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মি. মাহমুদুর রহমান এখন কোথায়? কাওরান বাজারে তার পত্রিকার অফিসে তিনি এখন নেই।
তিনি আছেন কাশিমপুর জেলে।

ভিন্ন মতাবলম্বী মিডিয়া দমন ও দলনে ঐতিহাসিকভাবে পারদর্শী আওয়ামী লীগের বহু ভিকটিমের মধ্যে একজন ভিকটিম, নির্যাতিত দলিত মি. মাহমুদুর রহমান।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার মাত্র এক বছর পরেই জানুয়ারি ১৯৭৩-এ মিডিয়া পীড়ন শুরু করেছিল তদানীন্তন আওয়ামী লীগ সরকার। পররাষ্ট্র দফতরের সামনে বগেনভিলিয়া ফুল চত্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে সেদিন বিকেলেই একটি টেলিগ্রাম সংখ্যা প্রকাশের দায়ে দৈনিক বাংলার সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল - তাৎক্ষণিকভাবে। সেই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে বাঙালি পুলিশের গুলিতে বাঙালি বিক্ষোভকারী নিহত হবার ঘটনাটিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভেবেছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। এর খেসারত তাকে দিতে হয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে অনুপস্থিত তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতার সিদ্ধান্তে।

সেই থেকে শুরু।

এর বছর দুয়েক পরেই সেই নেতা ও তার সরকারের কালো আইনের ফলে মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা বাদে অপর সব পত্রপত্রিকা নিষিদ্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশে। ওই চারটি দৈনিক পত্রিকাই হয় সরকারি মালিকানাধীন। সেই সময়ে টেলিভিশন এবং রেডিও ছিল সরকারি মালিকানাধীন। অর্থাৎ, সরকারের বাইরে মত প্রকাশের কোনো সুযোগই তখন আর ছিল না।

মনোবৃত্তি বদলায়নি

তার প্রায় চল্লিশ বছর পরে বাংলাদেশে মিডিয়ার ছবি অনেক বদলে গেলেও আওয়ামী লীগের মনোবৃত্তি বদলায়নি।

এখন বাংলাদেশে একদিকে রয়েছে সরকরি মালিকানাধীন টেলিভিশন, রেডিও এবং সংবাদ সংস্থা বাসস বা বিএসএস। অন্যদিকে রয়েছে বেসরকারি দৈনিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন, টেলিভিশন, রেডিও এবং ইন্টারনেট, অনলাইন মিডিয়া, যার একাংশ বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

কিন্তু এখন চলছে নির্বাচিত মিডিয়া দলন। অর্থাৎ, মিডিয়ার যে অংশটি ভিন্ন মতাবলম্বী, যে মিডিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের পছন্দ নয় তাকে দমন করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের নির্বাচিত মিডিয়াই গত সাত বছরে আওয়ামী পৃষ্ঠপোষক সরকার এবং আওয়ামী সরকার দ্বারা দলিত হয়েছে। ইন্টারনেটে ফেসবুক এবং ইউটিউব সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে সোনার বাংলাদেশ ওয়েবসাইট এবং তার পরিচালক আমিনুল মোহাইমেনকে জেলবন্দি করা হয়েছে। তার পরিবার এখন নিদারুণ অর্থকষ্টে আছে। বন্ধ হয়ে গেছে চ্যানেল ওয়ান টিভি, দিগন্ত টিভি এবং ইসলামী টিভি। বন্ধ হয়ে গেছে দৈনিক আমার দেশ। সরকারি বিজ্ঞাপন কমিয়ে দেয়া হয়েছে দৈনিক নয়া দিগন্ত-র। এর ওপর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ আরো কিছু মন্ত্রী নিয়মিতই নিন্দা করছেন টিভি টক শো-র। চেষ্টা চলছে টক শো নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিধিমালা প্রণয়নের।

অর্থাৎ, মিডিয়া দলনের ক্ষেত্রে চারিত্রিকভাবে চল্লিশ বছর পরেও আওয়ামী লীগ বদলায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত হন কারা?

এখানে আমি আপনাদের একটু বুঝিয়ে বলতে চাই, মিডিয়া দলনের ফলে কারা ব্যক্তিগত এবং পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

আমার দেশ নিষিদ্ধ হবার ফলে শুধু সম্পাদক মাহমুদুর রহমানই নন - তার সঙ্গে তার প্রায় ৮০০ কর্মচারি সাংবাদিক ঢাকা এবং মফস্বলে - এবং প্রেস শ্রমিকের পরিবার বিপন্ন হয়েছে। ঈদ তাদের জন্য আনেনি বেতন বোনাস আনন্দ। শুধু এরাই নয়। এদের বাইরে বৃহত্তর পরিধিতে রয়েছেন দেশ জুড়ে শত শত পত্রিকা হকার, যারা পত্রিকা বিক্রি করে আয় করেন। তাদের আয়ও কমে গেছে।

জুলাই ১৯৮৬-তে সাপ্তাহিক যায়যায়দিন দ্বিতীয়বার নিষিদ্ধ হয়েছিল। আমার মনে পড়ে তখন এক সন্ধ্যায় গুলশান এক নাম্বার মার্কেটের সামনে ছেড়া প্যান্ট ও ময়লা শার্ট পরা এক কিশোর হকারকে, যে আমাকে চিনত। আমার কাছে এসে সে বলেছিল, সাহেব, আপনার যায়যায়দিন তো বন্ধ হয়ে গেল। আপনি বড়লোক। আপনি বেচে থাকতে পারবেন, কিন্তু আমার কি হবে? যায়যায়দিন বিক্রি করে যে বাড়তি টাকাটা আমি পেতাম, তারই ভরসায় আমি গ্রাম থেকে আমার মাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলাম। এখন কি হবে? মাকে গ্রামে পাঠিয়ে দিতে হবে? আমাদের চলবে কি করে?

এই বলে সে ঝরঝর করে কেদে ফেলেছিল।

গণভবনে বসে পত্রিকা নিষিদ্ধ করা তাদের পক্ষেই সম্ভব, যারা এসব গণমানুষের পত্রিকানিভর্র জীবিকার কথা বিন্দুমাত্র ভাবেন না।

জীবনের ঝুকি নিতে হয়

আমার দেশের মতো একইভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামী টেলিভিশন ও চ্যানেল ওয়ান টেলিভিশনের কর্মচারিদের পারিবারিক জীবন। ওয়ান ইলেভেনের পরে একইভাবে বিপন্ন হয়েছে দৈনিক যায়যায়দিনের কর্মচারি-সাংবাদিকদের জীবন। প্রকৃত মালিক হারিয়েছেন যায়যায়দিনের মালিকানা। এখানে একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, ভিন্ন মত প্রকাশের কারণেই মাহমুদুর রহমানকে জেলে যেতে হয়েছে। ভিন্ন মত প্রকাশের কারণেই আমাকে অতীতে এরশাদ সরকারের আমলে প্রায় পাচ বছর নির্বাসিত থাকতে হয়েছিল, যার ফলে আমি আমার পিতা-মাতা উভয়কেই তাদের মৃত্যুর সময় সেবা করতে পারিনি। সমপ্রতি ৬ মে ২০১৩-র ভোর রাতে যখন শাপলা চত্বরে হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর হত্যা অভিযান চলছিল, তখন আমার বাড়িতে বোমাবাজির পর আমাকে বারো ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল আওয়ামী সরকার সমর্থকরা। অর্থাৎ, ভিন্ন মত প্রকাশের জন্য, মাহমুদুর রহমান, আমাকে এবং আরো অন্যান্যকে তাদের প্রতিষ্ঠানই যে শুধু হারাতে হয়েছে তা নয় - আমাদের জীবনের ঝুকিও নিতে হয়েছে।

বহু সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। যেমন সাগর-রুনি দম্পতিকে। এরা ছাড়াও আরো অনেক সাংবাদিক-মিডিয়াকর্মী হতাহত হয়েছেন। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দায়িত্ব নতুন সরকারকে নিতে হবে। প্রসঙ্গত আমি বিএনপি নেত্রীকে মনে করিয়ে দিতে চাই, এই সাগর-ই আপনার ইন্টারভিউ নিতে বার্লিন থেকে এসেছিলেন ঢাকায় - এবং আপনি তাকে ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন।

সরকার পরিবর্তন হলে কি হবে?

এখন ধরা যাক, ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু এবং অবাধভাবে দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন হবে। বর্তমানে যারা বিরোধী দল, ধরা যাক তারা সেই নির্বাচনে বিজয়ী হবে।

তখন কি হবে?

বিজয়ী দলের নেতারা এমপি হবেন, উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী হবেন। বাড়ি-গাড়ি পাবেন। ডিউটি ফৃ গাড়ি কেনার সুযোগও হয়তো পাবেন।

বর্তমানে নির্যাতিত এবং ওএসডি আমলারা ফিরে পাবেন বকেয়া বেতন-ভাতাসহ মর্যাদাপূর্ণ নতুন চাকরি। তারা হবেন যুগ্ম সচিব, সচিব, রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি।

শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা ফিরে পাবেন দেশ জুড়ে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ, যেখানে তারা আবার আয় এবং লাভ করবেন। রিহ্যাব ফিরে পাবে দেশ জুড়ে ফ্ল্যাট বিক্রির সুযোগ - এখন যেটা প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। সেই সঙ্গে আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত সব ব্যবসা, যেমন টাইলস, পাইপ, স্টিল রড, স্যানিটারি ফিটিংস, ইলেকটৃক ফিটিংস, সবই আবার স্বচ্ছন্দ গতিতে চলবে। মিডল ইস্টে লোক পাঠানোর ব্যবসাও আবার পুরো দমে শুরু হতে পারবে।

তখন ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ আক্রান্ত হবে না। আওয়ামী সমর্থক চ্যানেল আইতে নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিয়ে যায় ইসলামী ব্যাংক। তখনো তারা তাই করতে পারবে। তখন দেশে সুন্দর পরিবেশে সুন্দর ব্যাংকিং ব্যবসা করতে পারবে, বর্তমানে আক্রান্ত গ্রামীণ ব্যাংক। সেই সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকসহ অন্যান্য সব ব্যাংক এবং সব ইনশিওরেন্স কম্পানি। সবাই। সবাই।

অর্থাৎ, সারা দেশে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ফলে বিএনপি এবং তার সহযাত্রী রাজনৈতিক দলগুলো, আমলাতন্ত্র, শিল্প এবং ব্যবসা-ব্যাংকিংতন্ত্র সবাই দেশের পরিবর্তিত অবস্থার সুফল ভোগ করবে।

নির্যাতিত মিডিয়ার কি হবে?

কিন্তু এই পরিবর্তনের জন্য যারা জীবন ও প্রতিষ্ঠানের ঝুকি নিয়ে একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন, তাদের কি হবে?

মাহমুদুর রহমানের কি হবে? দৈনিক আমার দেশ সহ অন্যান্য নির্যাতিত এবং দলিত মিডিয়ার কি হবে?

উত্তরটা হচ্ছে, মাহমুদুর রহমান এবং আমার দেশকে জিরো বিজ্ঞাপন এবং জিরো সার্কুলেশন থেকে আবার শুরু করতে হবে।

মাহমুদুর রহমানকে তার অফিস থেকে গ্রেফতার করার রাতে আমি তার সঙ্গে তার অফিসে ছিলাম। তিনি বলছিলেন, আমার দেশ-এর সার্কুলেশন, প্রথম আলোর সার্কুলেশন ছুই ছুই করলেও, চট্টগ্রাম এবং উত্তর বাংলায় প্রেসের অভাবে তিনি অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে পারছেন না।

সেই অবস্থা তিনি আর ফিরে পাবেন না।

আমার দেশ-এর তালাবন্ধ প্রেসে মরচে ধরছে। আয় না থাকলেও পত্রিকাটির বিভিন্ন খরচ থেকেছে, যেমন অফিস ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফোন, কর্মীদের বেতন ইত্যাদি। সরকার পরিবর্তিত হলে, প্রেসের যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক করা, কর্মচারি-সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন মেটানো, আয় না থাকার ফলে যে ধার হয়েছে, সেসব শোধ দেয়া নিয়ে মাহমুদুর রহমান এবং আমার দেশ কর্তৃপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত থাকতে হবে। যে বিরাট ক্ষতি তার হয়েছে, সেটা কিভাবে তিনি পূরণ করবেন?

একই সমস্যায় পড়বে দিগন্ত টিভি, ইসলামী টিভি, চ্যানেল ওয়ান টিভি ইত্যাদি।

বহু দলীয় গণতন্ত্রের জন্য দরকার বহু দলীয় মিডিয়া

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভিন্ন মতাবলম্বী মিডিয়া যদি তখনো দুর্বল থাকে, তাহলে নতুন সরকার কত দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে? নিউজপেপার, টিভি, রেডিও, অনলাইন সার্ভিস-এর অধিকাংশই আওয়ামী সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও পাচ বছরে আওয়ামী সরকারকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আর যদি মিডিয়ার সেই অংশটি নতুন বিএনপি সরকার বিরোধী হয়, তাহলে পাচ বছরে নয় - পাচ মাসেই নতুন সরকারের পতন ঘটবে।

সুতরাং বহু দলীয় গণতন্ত্র যদি এই দেশে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে অবশ্যই বহু দলীয় মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দয়া ভিক্ষা নয় - ক্ষতিপূরণের দাবি

আর সে জন্যই নতুন সরকারের দরকার হবে গত সাত বছরে ক্ষতিগ্রস্ত মিডিয়াকে যথোপযুক্ত এককালীন ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের অবিলম্বে কার্যকর হবার ব্যবস্থা করা।

এখানে আরো বলা উচিত, আমার দেশ অথবা দিগন্ত টিভির জন্য আমি করুণা ভিক্ষা করছি না। কারো দয়া ভিক্ষা করছি না। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই জনপ্রিয় ছিল এবং ব্যবসায়িকভাবে চালু ছিল। সুতরাং সেই অবস্থায় ফিরে যাবার সুযোগটি তাদের অতি ন্যায্য দাবি। নতুন সরকারকে এই দাবি মেটাতেই হবে।

এতে খরচ পড়বে কত?

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে কম পক্ষে দুশ কোটি টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব আমি করছি।

এটা এমন কোনো বড় পরিমাণ নয়, বিশেষত সেই দেশে, যেখানে হলমার্ক কর্তৃপক্ষদের মতো দুর্বৃত্তদের সরকারি ব্যাংক থেকে লুটপাটের সুযোগ দেয়ার পর আওয়ামী অর্থমন্ত্রী বলতে পারেন, ৪০০০ কোটি টাকা কিছুই নয়। নিউ ইয়র্কে চলতি সপ্তাহে আওয়ামী অর্থ মন্ত্রী আবর বলেছেন, ৪,০০০ হাজার কোটি টাকা পিনাট, অর্থাৎ চিনাবাদাম মাত্র! আপনারা এটাও জানেন, এসব ব্যাংক লুটপাটের টাকাতেই গড়ে উঠেছে অনেক আওয়ামী সমর্থক মিডিয়া। যেমন, ডেসটিনির বৈশাখী টিভি। আর তাই আমার দাবি, রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে যখন দলীয় মিডিয়া গঠিত হতে পারে - তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিকূলতায় ক্ষতিগ্রস্ত ভিন্ন মতাবলম্বী মিডিয়াকে ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

আরেকটি কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মিডিয়াকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

নতুন প্রজন্মের সাংবাদিক সৃষ্টি ছাড়া ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক সৃষ্টি দুঃসাধ্য হবে। বহু দলীয় মিডিয়া গঠনের লক্ষ্যে ভিন্ন মতাবলম্বী মিডিয়াকে আর্থিকভাবে সুসংহত করতে হবে - এবং সেটা বৈধভাবেই করতে হবে। তা না হলে ভিন্ন মতাবলম্বী মিডিয়াতে যোগ্য সাংবাদিক-কর্মচারি যোগ দেবেন না।

শুধু বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মালিকানা বদল হয়ে যাওয়া মিডিয়াই নয় - যেসব মিডিয়া গত সাত বছরে কিছুটা হলেও মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সেনা সরকার এবং আওয়ামী সরকারের উচিত সমালোচনা করেছে এবং যার ফলে তারা বিজ্ঞাপনী আয় হারিয়েছে এবং বিভিন্ন হুমকির মুখে পড়েছে, তাদেরও এককালীন ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব আমি করছি।

ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের গণতান্ত্রিক ভূমিকা

এরপর আমি আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে, ক্ষতিপূরণ নয় - অর্থ সাহায্য দেয়ার প্রস্তাব করছি। এটি ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব। সামপ্রতিক কালে জাতীয় প্রেস ক্লাব যে সাহসী ভূমিকা রেখেছে তার ফলে সেখানে একের পর এক ভিন্ন মতের সম্মেলন, সেমিনার এবং গোল টেবিল বৈঠক হতে পেরেছে। যখন আমার লেখা আটটি বই প্রকাশনা আওয়ামী সরকার মরিয়া হয়ে বন্ধ করতে চাইছিল, যখন সোনারগাও হোটেল ও শেরাটন হোটেল (রূপসী বাংলা হোটেল) কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে প্রকাশনা উৎসব বাতিল করে দিয়েছিল, যখন আওয়ামী সন্ত্রাসের ভয়ে আর কোনো হল আমাদের স্থান দিতে চাইছিল না, তখন একমাত্র জাতীয় প্রেস ক্লাব আমাদের বই প্রকাশনার স্থান দিয়েছিল। এই প্রেস ক্লাবকে তার গণতান্ত্রিক ভূমিকার জন্য পুরস্কৃত করা উচিত। এই প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় হলভবনটি নতুন করে নির্মাণ এবং সেখানে এয়ারকুলারসহ ভালো সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের প্রস্তাব আমি দিচ্ছি। সেখানে দোতলায় আরো কয়েকটি বিভিন্ন সাইজের কনফারেন্স রুম বানানোর প্রস্তাব দিচ্ছি। পাশাপাশি এই প্রেস ক্লাবে আমি ১০০ রুম বিশিষ্ট গেস্ট হাউস বানানোর খরচও দেয়ার প্রস্তাব করছি। ঢাকা ক্লাব এবং চিটাগাং ক্লাবের গেস্ট হাউসের মতোই এই গেস্ট হাউসে এসে থাকতে পারবেন মফস্বলের সাংবাদিকরা।

বিএনপি নেতৃবৃন্দকে আমি অনুরোধ করছি, তারা ক্ষমতাসীন হলে যেন আমার এই তিনটি প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়িত করেন।

আমি এখন আমার এই প্রস্তাবটি উপস্থিত সুধী ম-লীর সামনে পেশ করছি। অকার্যকর হয়ে থাকা ধিক্কৃত একটি সংসদ আর কয়েক দিন পরেই বিদায় নেবে - তার বদলে আজ এখানে আপনারাই জনগণের সংসদ। যদি আপনারা মনে করেন ক্ষতিগ্রস্ত মিডিয়াকে আমার প্রস্তাবিত পরিমাণের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত, তাহলে আপনারা সবাই সমস্বরে বলুন, হ্যা।

ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে। আজকের প্রস্তাবটি সমর্থন ও পাস করানোর জন্য।

সবাইকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।

সম্ভাব্য আগামী উত্তাল দিনগুলোতে আপনাদের সবার নিরাপত্তা কামনা করছি।

ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব বিজয়ী হোক।

বহু দলীয় মিডিয়া প্রতিষ্ঠিত হোক।

বহু দলীয় গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক।

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩

 
 

Page 1 of 2

মতামত

ইদানিং হঠাৎ এক বুদ্ধিজীবী এবং দুষ্ট বান্দরের গল্প!

গোলাম মাওলা রনি: বিষয়টি প্রথমে আমি বুঝতেই পারিনি। যখন পারলাম তখন একটার পর একটা অদ্ভূত ঘটনা ঘটতে লাগলো। হঠাৎ করেই একদিন...

স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই

হঠাৎ করেই যেন দেশে খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রকাশিত হয়েছে ৩৩টি খুনের খবর। প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা...

Joomla Templates and Joomla Extensions by JoomlaVision.Com

সাহিত্য-সংস্কৃতি

বাংলাদেশের সংস্কৃতি

  বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের গণমানুষের সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, ভোজনরীতি, পোষাক, উৎসব ইত্যাদির মিথষ্ক্রীয়াকে...

24 November 2013 Read more...
Joomla Templates and Joomla Extensions by JoomlaVision.Com

স্বাস্থ্য

প্রাকৃতিক ফ্যামিলি প্ল্যানিং

এনিউজ২৪.নেটঃ ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফ্যামিলি প্ল্যানিং করা বেশ সুবিধাজনক। তিনভাবে ন্যাচারাল ফ্যামিলি প্ল্যানিং করা...

Read more...
Joomla Templates and Joomla Extensions by JoomlaVision.Com

লাইফস্টাইল

মালাইচপ

উপকরণ : স্পঞ্জ রসগোল্লা ১০টি, দুধ ১ লিটার, চিনি আধা কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ। যেভাবে তৈরি করবেন ১. দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে এর মধ্যে চিনি দিন।...

Read more...
Joomla Templates and Joomla Extensions by JoomlaVision.Com

সম্পাদক: মোহাম্মদ মাসুদ, প্রধান সম্পাদক: এস,এম মাসুদ রানা
বার্তা সম্পাদক : মো: সেলিম কবির, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : ইমরান চৌধুরী বাবু


 

একটি অন্যভিশন লি. এর প্রতিষ্ঠান

৯২,শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফারুক ইকবাল ও তসলিম সড়ক,৫ম তলা, ডিআইটি রোড,মালিবাগ রেলগেইট, ঢাকা -১২১
ফোন: +৮৮০১৫৫৬৬৩২৮০৭ (সম্পাদক), বার্তা সম্পাদক: +88-01712209796,
নিউজ সেল রুম:
+8801911912586 ;01919823280
;
01913505761 বিজ্ঞাপন বিভাগ: +88028318527
Email: anews24x7@gmail.com,
anews24x7@ymail.com, editoranews24@gmail.com