শেয়ার করুন

স্বাধীনতা আমাদের গৌরব সেই গৌরব ধরে রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে -আরিফুর রহমান সোহেল

স্টাফ রিপোর্টার ঃ  আমি গর্ববোধ করি আমি একজন বাঙ্গালী। আমি গর্বিত আমি মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ...

”ওয়ালটন” পণ্যের প্রতি আস্থা ফিরেছে দেশের কোটি মানুষের

৯০ দশকে সাংবাদিকতায় আসেন এনায়েত ফেরদৌস। দৈনিক রুপালী হয়ে বর্তমানে ইংরেজি দৈনিক নিউজ টুডে’র সিনিয়র সাব এডিটর। সেই...

প্রাণের পাঁচটি মসলা পরীক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টের

এনিউজ২৪.নেটঃ প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেড কোম্পানির মরিচ, আদা, জিরা, ধনিয়া ও রসুনের গুঁড়ায় মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর...

Joomla Templates and Joomla Extensions by JoomlaVision.Com

ইসলাম

বিশ্ব ইজতেমায় ১৫০ দেশের ৫০ হাজারের বেশি মুসল্লি যোগ দেবে

বিশ্ব ইজতেমার ৪৯তম আসরে এবার পৃথিবীর ১৫০টি দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজারেবেশি বিদেশি মুসল্লি যোগ দেবে ইজতেমায় প্রথম দিন থেকেই ভারত পাকিস্তানের ওলামারা বয়ান দেবেন বিশ্ব ইজতেমা প্রস্তুতি বাস্তবায়ন কমিটি সূত্রে তথ্য জানা যায় বিশ্ব ইজতেমা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম গণজমায়েত ইজতেমা আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে দুই দফায় চলবে দুই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এজন্য দশদিন আগ থেকেই চলছে ইজতেমা সফল করার সব ধরনের প্রস্তুতি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে চলছে ইজতেমা প্রস্তুতির মহাকর্মযজ্ঞ ইজতেমায় আগেই চলে আসা শত শত মুসল্লি তাঁবু টানানোসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মুসল্লিরা বাঁশ টানছেন, বিদ্যুতের খুঁটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন, অনেকে আবার আগত দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের রান্নার কাজে সহায়তা করছেন বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তায় প্রতিবছরের মতো এবারও থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিনস্তরের নিরাপত্তা এজন্য এখন থেকেই চলছে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ওয়াচ টাওয়ারসহ চেকপোস্ট তৈরির কাজ মুসল্লিদের পাশাপাশি মাঠে কাজ করছে র্যাব সেনাসদস্যরা তারা বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসাতে ব্যস্ত বিশ্ব ইজতেমায় স্থাপিত র্যাব ক্যাম্প সূত্র জানায়, প্রস্তুতি ভালভাবে এগিয়ে চলছে যথাসময়ে ইজতেমা শুরু হবে ইজতেমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে

 

নতুন বর্ষের বার্তা : নিজের উপর জুলুম করো না

১৪৩৫ একটি নতুন হিজরী বর্ষের সূচনা হিজরী বর্ষের প্রথম মাস মুহার্রম, যা আশহুরে হুরুম তথা সম্মানিত চার মাসের একটি যে চার মাসের কথা কুরআন মাজীদে এভাবে এসেছে (তরজমা) নিশ্চয়ই আকাশমন্ডলী পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গণনায় মাস বারটি, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস - প্রতিষ্ঠিত বিধান সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না... সূরা তাওবা : ৩৬

সুতরাংতোমরা নিজেদের উপর জুলুম করো নাএই আসমানী নির্দেশনার সাথেই আমাদের হিজরী বর্ষের সূচনা হচ্ছেনিজের উপর জুলুমকীভাবে হয়? ‘নিজের উপর জুলুমহয় পাপাচারের দ্বারা, অনাচারের দ্বারা এবং অন্যায় অবিচারের দ্বারা মানুষে কেন নিজের উপর জুলুম করে? মানুষ নিজের উপর জুলুম করে পরিণাম থেকে গাফেল হয়ে কেউ যখন মনে করে তার কোনো জবাবদিহিতা নেই তখন সে বেপরোয়া হয়ে অন্যায়-অনাচারে লিপ্ত হয় এবং নিজের চরম ক্ষতিসাধন করে একারণে আখিরাতে অবিশ্বাস বা আখিরাত সম্পর্কে উদাসীনতা মানুষের সকল অপকর্মের মূল আর যারা মানুষকে আখিরাত থেকে বিমুখ বা উদাসীন করে তারাই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু

মানুষ মনে করে, অন্যকে কষ্ট দিয়ে, অন্যের সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং অন্যের সম্মান বিনষ্ট করে নিজে লাভবান হবে মানুষ তো সকল কাজ নিজের লাভের জন্যই করে-কিন্তু পরিণাম পরিণাম-দিবস সম্পর্কে উদাসীন থাকার কারণে সে উপলব্ধি করে না যে, সে আসলে নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করল যখন অপ্রত্যাশিতভাবে তার কর্মের ফিরিস্তি-আমলনামা তার সামনে তুলে ধরা হবে, তখন সে চমকে ওঠবে এবং বলবে, কী অদ্ভূত কিতাব! তো ছোট বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না সব সংরক্ষণ করে ফেলেছে

শুধু আখেরাতেই নয়, দুনিয়াতেও মানুষকে তার অপকর্মের কিছু কুফল ভুগতে হয় বিশেষত জুলুম-অত্যাচার, অন্যকে কষ্ট দেওয়া অন্যের হক্ব নষ্ট করার মতো বিষয়গুলো মানুষকে দুনিয়াতেও আলস্নাহর শাস্তির মুখোমুখী করে

এক মানুষ অন্য মানুষের প্রতি বিভিন্নভাবে জুলুম করে কখনো দৈহিকভাবে, কখনো মানসিকভাবে কখনো সরাসরি অপমানের দ্বারা, কখনো মিথ্যাচারের দ্বারা কখনো দোষ অন্বেষণের দ্বারা, কখনো অপবাদ আরোপের দ্বারা কিন্তু সকল কিছুর কুফল অবশেষে অত্যাচারীর নিজেকেই ভুগতে হয় হিজরী নতুন বছর সকলকে পরিণাম -সচেতনতার বার্তা প্রদান করে

মানুষ স্বভাবগতভাবেই গৌরব-প্রবণ মানুষ শক্তির গর্ব করে সম্পদের গর্ব করে আর সবচেয়ে বেশি জ্ঞান-বুদ্ধির গর্ব করে আত্মগর্বী মানুষ জোরগলায় বলেআমি ন্যায়ের পথে চলি অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করি না আর আমি কারো অন্ধ অনুসারী নই ইত্যাদি কিন্তু বাস্তবতা এই যে, মানুষ অন্যায়ে লিপ্ত হয়, ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আর অনেক ক্ষেত্রেই তা হয় ভুল ব্যক্তির অনুসরণ বা ভুলের অনুকরণের কারণে মানুষ যদিও বুদ্ধি স্বাতন্ত্রের বড়াই করে আসলে সে অনুকরণপ্রিয় এমনকি যখন সে অনুকরণ বর্জনের ঘোষণা দেয় তখনও তা হয় কারো না কারো অনুকরণমাত্র

অনুকরণমাত্রই দোষের নয় সত্য-ন্যায়ের অনুকরণ সত্য ন্যায়ের মতোই বরণীয় আর অন্যায় অসত্যের অনুকরণ অসত্য অন্যায়ের মতোই বর্জনীয় কুরআন মাজীদে কী সুন্দরভাবেই না সত্য উল্লেখিত হয়েছে (তরজমা) জালিম ব্যক্তি সেদিন নিজের হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে সৎপথ অবলম্বন করতাম! হায় দুর্ভোগ আমার; আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমাকে তো সে বিভ্রান্ত করেছিল আমার কাছে উপদেশ পৌঁছার পর শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক (সূরা ফুরকান ২৫:২৭-২৯)

তো রাসূলের পথ অনুসরণ হেদায়েতপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণের অনুকরণ শুধু কাম্যই নয়, মুক্তির অপরিহার্য শর্ত আর গোমরাহীর পথের অনুসরণও গোমরাহ লোকদের অনুকরণ শুধু বর্জনীয়ই নয় চূড়ান্ত ক্ষতি আক্ষেপের কারণ অধিকাংশ মানুষ মন্দ লোকের অনুসরণেই ভুল পথে যেয়ে নিজের উপর জুলুম করে সুতরাং দুনিয়া-আখেরাতে আত্মরক্ষার প্রধান উপায় মন্দ লোকের সংশ্রব বর্জন আর ভালো মানুষের সাহচর্য গ্রহণ ভালোর সাহচর্য মানুষের ভালো হতে সাহায্য করে

হিজরী নতুন বর্ষ বলে, আমরা যেন ভালো মানুষের সাথে থাকি আর খারাপ মানুষের সাহচর্য ত্যাগ করি

এখন প্রশ্ন হল ভালো-মন্দের মাপকাঠি কী? কারা ভালো আর কারাই বা মন্দ? পৃথিবীর সবাই তো নিজেদেরভালোবলে আর নিজেদের মত পথকেইআলোবলে দাবি করে? ভালো-মন্দের পার্থক্য তাহলে কীভাবে হবে? এখানে প্রথমেই বুঝতে হবে যে, জগতের কোনো কিছুই শুধু দাবির দ্বারা সাব্যস্ত হয় না সুতরাং দাবিরপ্রাচুর্য্যেঅস্থির হওয়ার কিছু নেই অন্তত মুসলমানের জন্য তো নেই- কারণ আমাদের মানদন্ড ইসলাম আমাদের মানদন্ড কুরআন সুন্নাহ্ অতএব যারা ইসলামের ওফাদার তারা আমাদের কাছে গ্রহণীয় আর যারা ইসলামের শত্রু তারা আমাদেরও শত্রু যারা কুরআন-সুন্নাহর অনুসারী তারা আমাদের অনুসারণীয় আর যারা কুরআন-সুন্নাহর অনুসারী নয় তারা আমাদের অনুসরণীয়ও নয় যে মত পথ কুরআন-সুন্নাহর মানদন্ডে উত্তীর্ণ তা গ্রহণীয় আর যা কিছু এই মানদন্ডে উত্তীর্ণ নয় তা বর্জনীয়, গ্রহণ-বর্জনের মানদন্ড সম্পর্কে আমাদের মনে কোনো বিভ্রান্তি থাকা উচিৎ নয় তো ভালোর সাথে আলোর পথে থাকাই হচ্ছে নিজের প্রতি ন্যায়বিচার আর মন্দের সাথে অন্ধকারে যাওয়াই চ্ছে নিজের উপর অবিচার

হিজরী নতুন বর্ষ আমাদের ভালোর সাথে থাকার এবং আলোর পথে চলার আহবান জানায়

মানুষ সর্বাবস্থায় আল্লাহর ফয়সালার অধীন তাঁর জীবন-মৃত্যু, সফলতা-ব্যর্থতা, সুপথপ্রাপ্তি বিপথগামিতা সব কিছুতেই তার মহাপরাক্রমশালী প্রভুর ফয়সালা কার্যকর তাঁর আদেশে মানবের জীবন, তাঁর আদেশেই মৃত্যু তাঁর আদেশেই মানবের সফলতা, তাঁর আদেশেই ব্যর্থতা সুতরাং সেই মহাপ্রভু আল্লাহর কাছে করজোর প্রার্থনাই বান্দার সফলতা সুপথ প্রাপ্তির উপায় আমাদের মহান রবের এক গুণ তিনি পরম করুণাময় দুহাত তুলে তাঁর দরবারে যে চায় তিনি কখনো তাকে খালিহাতে ফিরিয়ে দেন না সুতরাং যে তাঁর অভিমুখী হয় সে সৌভাগ্য লাভ করে আর যে তাঁর থেকে বিমুখ হয় সে তো আপন সৌভাগ্য থেকেই বিমুখ হয়

হিজরী নতুন বর্ষ আমাদেরকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহমুখিতার আহবান জানায় আল্লাহ রাববুল আলামীন আমাদের কবুল করুন আমীন

 

মাসিক আলকাউসার (মুহাররম ১৪৩৫ . নভেম্বর ২০১৩)

 

 

 
 

টঙ্গীতে পাঁচদিনব্যাপী জোড় ইজতেমা শুরু

টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা বিশ্ব ইজতেমার শুরুতে জোড় ইজতেমা শুরু হচ্ছে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর জোড় ইজতেমায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের লাখো মুসুল্লি জড়ো হয়েছেন তুরাগ তীরে জানা গেছে, স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গাজীপুর টঙ্গীর বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক সাধারণ মুসল্লিরা চট দিয়ে প্যান্ডেল নির্মাণ করেছেন ইজতেমায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন পাঁচদিনের এই জোড় নেওয়ালী জামাতে পাঁচ হাজার মুরব্বীর মাধ্যমে কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নিবেন বলে আয়োজকরা আশা করছেন তিন চিল্লা এবং হাল্কা ওয়ারি অনুষ্ঠানে জুম্মার দিন বয়ান এবং মোনাজাত করবেন দিল্লির মাওলানা জুবায়ের হাসান, মাওলানা রবিউল ইসলাম, মাওলানা ওয়াসিব হুসাইন গত বছরের ন্যায় এবারও দুপর্বে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমা আর বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি হিসেবে জামাতভুক্ত পুরাতন সাথীদের নিয়ে এবার বার্ষিক জোড় ইজতেমা শুরু হয়েছে টানা পাঁচদিন জোড় ইজতেমা শেষেই বিশ্ব ইজতেমার প্যান্ডেলসহ যাবতীয় কাজ শুরু করা হবে এদিকে, এবারো জোড় ইজতেমায় নেয়া হয়েছে র‌্যাব-পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে টঙ্গী মডেল থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, জোড় ইজতেমা উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ইজতেমা মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এছাড়া সাদা পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের টহল নজরদারি বাড়ানো হয়েছে

উল্লেখ্য, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে দুই পর্বে ছয়দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা প্রথম পর্বের তিনদিনের ইজতেমা শুরু হবে ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি আর ৩১ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে যা ফেব্রুয়ারির তারিখ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে

 
 

আল্লাহর যিকির : সুফল ও উপকারিতা

(মাওলানা হাবীবুর রহমান)

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. যিকিরের ফযিলত সম্পর্কেআলওয়াবিলুছ ছাইয়িবনামে একটা কিতাব লিখেছেন তাতে যিকিরের ফায়দা ফযিলত সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন কিতাবে তিনি যিকিরের একশরও বেশি ফায়দা উল্লেখ করেছেন কিছু ফায়দা এখানে তুলে ধরা হল

. যিকির শয়তানকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তার শক্তি নষ্ট করে দেয়

. আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়

. দুশ্চিন্তা দূর করে

. প্রশান্তি দান করে

. অন্তর শরীরে শক্তি যোগায়

. চেহারা অন্তরকে নূরানী করে

. রিযিকে বরকত আনে

. যিকিরকারীর মাঝে মাধুর্য গাম্ভীর্য সৃষ্টি করে

. আল্লাহর মহববত পয়দা করে আর মহববতই হচ্ছে ইসলামের রূহ দীনের কেন্দ্র এবং মুক্তি সৌভাগ্যের উপায় যে ব্যক্তি আল্লাহর মহববত পেতে চায় সে যেন বেশী বেশী যিকির করে

১০. যিকির মোরাকাবার পক্ষে সহায়ক, যা যিকিরকারীকে এহসানের মাকামে পৌঁছে দেয় আর এই মাকামে পৌঁছলে বান্দার এমন ইবাদত নছীব হয় যেন সে আল্লাহকে দেখছে

১১. যিকির মানুষকে আল্লাহমুখী করে ঘরে বাইরে তার হালত এমন হয় যে, সকল বিষয়ে আল্লাহ তাআলাকে্ই সাহায্যকারী মনে করে এবং যাবতীয় বিপদ আপদে তাঁরই আশ্রয় গ্রহণ করে

১২. আল্লাহর নৈকট্য হাসিল হয় যিকির যত বেশী হবে নৈকট্যও তত বৃদ্ধি পাবে আর যিকির থেকে যতই গাফলতি করা হবে ততই আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাবে

১৩. আল্লাহর মারেফাতের দরজা খুলে যায়

১৪. অন্তরে আল্লাহর ভয় বড়ত্ব সৃষ্টি হয় এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাকে দেখছেন, এই অনুভূতি সৃষ্টি হয়

১৫. স্বয়ং আল্লাহ যিকিরকারীকে স্মরণ করেন

১৬. দিলকে জিন্দা করে

১৭. যিকির হল দিল রূহের গিযা খাদ্যের অভাবে শরীর যেমন দুর্বল হয়ে পড়ে, তেমনি যিকিরের অভাবে দিলও মৃতপ্রায় হয়ে যায়

১৮. দিলের মরিচা দূর করে দিলের মরিচা হল খাহেশাত গাফলত যিকির তওবা, ইস্তেগফারের মাধ্যমে তা দূর হয়

১৯. গুনাহ মাফ হয় কারণ যিকির হল সর্বোত্তম নেক আমলসমূহের অন্যতম আর নেক আমলের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়ে থাকে

২০. আল্লাহর সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করে এবং সম্পর্কহীনতা দূর করে গাফিল আল্লাহ থেকে দূরে থাকে, শুধু যিকিরের মাধ্যমেই এই দূরত্ব দূর হয়

২১. বান্দা তার প্রতিপালকের যে সমস্ত তাসবীহ আদায় করে যে কারণে কঠিন মুহূর্তে আল্লাহ তাকে স্মরণ করবেন

২২. যে ব্যক্তি সুখ সচ্ছলতায় আল্লাহকে স্মরণ করে, দু: মুছিবতে আল্লাহ তাকে স্মরণ করেন

২৩. যিকির আল্লাহর আযাব থেকে নাযাত দান করে

২৪. যিকিরের কারণে ছাকিনা রহমত নাযিল হয় ফেরেশতারা চতুর্দিক থেকে যিকিরকারীকে ঘিরে রাখে

২৫. যিকিরের বরকতে গীবত, চোগলখুরী, মিথ্যাকথা, বেহুদা কথা ইত্যাদি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যিকিরে অভ্যস্ত ব্যক্তি এই সব কাজ কর্মে লিপ্ত হয় না পক্ষান্তরে যিকিরের বিষয়ে উদাসীন লোকেরা এই সব কর্মে লিপ্ত থাকে

২৬. যিকিরের মজলিস ফেরেশতাদের মজলিস আর গাফলতি বেহুদা কথাবার্তার মজলিস হল শয়তানের মজলিস

২৭. যিকিরের কারণে যেমন যিকিরকারী উপকৃত হয় তেমনি আশেপাশের লোকেরাও উপকৃত হয় আর বেহুদা কথাবার্তায় লিপ্ত ব্যক্তি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার আশেপাশের লোকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়

২৮. যিকিরকারী কেয়ামতের দিন আফসোস করবে না হাদীসে আছে, যে মজলিসে আল্লাহর যিকির হয় না কেয়ামতের দিন তা আফসোস ক্ষতির কারণ হবে

২৯. নির্জনে আল্লাহর স্মরণে যার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে সে কেয়ামতের দিন আরশের শীতল ছায়ায় স্থান পাবে যখন মানুষ প্রচন্ড গরমে ছটফট করতে থাকবে

৩০. দোয়াকারী দোয়ার মাধ্যমে যা কিছু পায় যিকিরকারী যিকিরের কারণে তার চেয়ে অনেক বেশি পায়

৩১. যিকির যদিও সহজ ইবাদত কিন্তু তা সমস্ত ইবাদত থেকে উওম সহজ এই জন্য যে, শুধু যবান নড়াচড়া করা সমস্ত অঙ্গ-পতঙ্গ নড়াচড়া করা থেকে সহজ

৩২. আল্লাহর যিকির জান্নাতের চারাগাছ

৩৩. যিকিরের মাধ্যমে যত পুরুস্কার ছওয়াব পাওয়া যায় অন্য কোন আমলের দ্বারা তা পাওয়া যায় না

৩৪. যে সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহ তাকে রহমতের সাথে স্মরণ করেন আর যে আল্লাহকে ভুলে যায় আল্লাহও তাকে ভুলে যান আল্লাহ যাকে ভুলে যান দুনিয়া আখেরাতে তার চেয়ে দুর্ভাগা আর কে হতে পারে? সুতরাং যিকির হল সৌভাগ্য লাভ করার দুর্ভাগ্য থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

৩৫. যিকির মানুষকে সর্বাবস্থায় আল্লাহর রেযামন্দির পথে ধাবমান রাখে বিছানায়, বিশ্রামে, সুস্থতায়, অসুস্থতায়, দুনিয়ার কাজকর্মে সর্বাবস্থায় যিকিরের মাধ্যমে উন্নতির পথে চলমান থাকা সম্ভব যিকির ছাড়া আর কোন আমল নেই, যা সর্বাবস্থায় জারি রাখা যায় ফলে যিকিরকারী বিছানায়, বিশ্রামরত অবস্থায় ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী হয়ে যায়, যে গাফেল অবস্থায় রাত্রী জাগরণ করে

৩৬. যিকির দুনিয়ার জীবনে নূর আলো, কবরের জগতে নূর আলো এবং আখেরাতে পুলসিরাতে নূর আলো অন্য কিছুই বান্দাকে এত নূর নূরানিয়াত দান করে না

৩৭. আল্লাহর স্মরণ ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়এটি আল্লাহওয়ালাদের তরীকা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায়অতএব যিকিরের দরজা যার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে তার জন্য আল্লাহর নৈকট্যের দরজা উন্মুক্ত হয়েছে অতএব সে যেন যাহেরী বাতেনী পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য অর্জন করে যে আল্লাহকে পেল সে সব পেল আর যে আল্লাহকে পেল না সে কিছুই পেল না

৩৮. অন্তরের একটি চাহিদা আছে, যা যিকির ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে পূরণ হয় না যিকির যখন অন্তরে বদ্ধমূল হয় এবং অন্তরই হয় প্রকৃত যিকিরকারী আর যবান হয় তার অনুসারী,তখন তা শুধু অন্তরের চাহিদাকেই পূরণ করে না বরং যিকিরকারীকে সম্পদ ছাড়াই ধনী করে দেয় আত্মীয়-স্বজন জনবল ছাড়াই শক্তিশালী বানিয়ে দেয় এবং ক্ষমতা ছাড়াই প্রভাবশালী বানিয়ে দেয় পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি যিকির থেকে গাফেল সে ধন সম্পদ, আত্মীয়-স্বজন রাজত্ব থাকা সত্ত্বেও লাঞ্ছিত, অপমানিত শক্তিহীন হয়ে যায়

৩৯. যিকির বিক্ষিপ্তকে একত্র করে এবং একত্রকে বিক্ষিপ্ত করে দূরবর্তীকে নিকটবর্তী করে এবং নিকটবর্তীকে দূরবর্তী করেবিক্ষিপ্তকে একত্র করার অর্থ হল, মানুষের ইচ্ছা, সংকল্প একগ্রতা ফিরিয়ে দেয় এবং তা শক্তিশালী করে আর একত্রকে বিক্ষিপ্ত করার অর্থ মানুষের অন্তরের দুশ্চিন্তা পেরেশানী দূর করে দেয় যিকিরের মাধ্যমে পেরেশানি দূর হয় এবং অন্তরে প্রশান্তি আসে তেমনি কৃতকর্মের ফলে যে পাপরাশি একত্র হয়েছে যিকির তা দূর করে এবং আমলনামাকে পাপমুক্ত করে তেমনি শয়তানের যে বাহিনী মানুষকে ঘেরাও করে যিকির তাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় মানুষ যত আল্লাহর পথে আগুয়ান হয় এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্কে গড়তে সচেষ্ট হয়, ততই শয়তান তার বাহিনীকে মানুষের প্রতি ধাবিত করে যিকির ছাড়া এই বাহিনীকে পরাস্ত করার আর কোনো উপায় নেই

৪০. যিকির মানুষের অন্তরকে নিদ্রা থেকে জাগ্রত করে অন্তর যখন ঘুমন্ত থাকে তখন সে লাভ পুঁজি দুটো থেকেই বঞ্চিত থাকে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর যখন সে জাগ্রত হয় এবং কী হারিয়েছে তা বুঝতে পারে তখন ক্ষতিপূরণের জন্য কোমর বাঁধে গাফলত উদাসীনতার গভীর নিদ্রা থেকে যিকিরই মানুষকে জাগ্রত করতে পারে

৪১. যিকির একটি বৃক্ষ তাতে মারেফাতের ফল ধরে আল্লাহর মারিফাত মহববতই হচ্ছে আল্লাহ প্রেমীদের পরম লক্ষ সুতরাং যিকির এই লক্ষ্য পূরণের প্রধান অবলম্বন যিকির বৃক্ষ যত বড় হবে তাতে তত বেশি ফল ধরবে

৪২. যিকির প্রথমে মানুষকে জাগ্রত করে তারপর তাকে তাওহীদ পযন্ত পৌঁছে দেয়যা সকল মাকাম মারিফাতের মূল

৪৩. যে আল্লাহর যিকির করে আল্লাহ তার সঙ্গে থাকেন অর্থাৎ তাকে ভালবাসেন এবং তার সাহায্য করেন

৪৪. যিকির গোলাম আযাদ করা, আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা মুজাহিদকে সওয়ারী দ্বারা সহযোগিতা করার সমতুল্য

৪৫. যিকির হচ্ছে শোকর গোযারির প্রধান উপায় যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকির করে না প্রকৃতপক্ষে সে তার শোকর আদায় করেনা

৪৬. আল্লাহর নিকট মুত্তাকি বান্দা বেশি সম্মানিত যার যবান আল্লাহর যিকিরে তরতাজা থাকে যে আল্লাহর ভয়ে তার আদেশ নিষেধ মেনে চলেছে এবং সর্বদা আল্লাহর যিকির করেছে তাকওয়া পরহেযগারের কারণে আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন এবং জাহান্নাম থেকে নাযাত দিবেন এটা হল তার কর্মের প্রতিদান আর যিকিরের কারণে সে লাভ করবে আল্লাহর সন্তুষ্টি নৈকট্য এটা হল তার বিশেষ মর্যাদা

৪৭. মানুষের অন্তরের কাঠিন্য যিকির ছাড়া অন্য কিছুর দ্বারা দূর হয় না তাই বান্দার কর্তব্য দিলের কাঠিন্যকে আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে দূর করা

(চলবে ইনশাআল্লাহ)

 
 

একটি ভুল ধারণা : যাকাত কি শুধু রমযান মাসে আদায় করতে হয়?


অনেক মানুষ মনে করে যে, যাকাত শুধু রমযান মাসে আদায়যোগ্য আমল ধারণা ঠিক নয় নিসাব পরিমাণ সম্পদের উপর এক চান্দ্র বছর অতিবাহিত হলেই সেই সম্পদের যাকাত দেওয়া ফরয যাকাত ফরয হওয়ার পর দ্রুত আদায় করতে হবে কিন্তু কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, তাদের যাকাতবর্ষ রমযান মাসের আগে, এমনকি / মাস আগে হয়ে যায় এরপরও তারা তখন যাকাত আদায় করে না; বরং রমযানের অপেক্ষা করতে থাকে এমন করা আদৌ উচিত নয় বরং গরীবের পাওনা যত দ্রুত আদায় করা যায় ততই শ্রেয় হ্যাঁ, যাদের যাকাতবর্ষ রমযান মাসে পূর্ণ হয় তারা রমযানেই আদায় করবেন

সূত্রঃ  মাসিক আলকাউসার

 
 

ফিরতি হজ ফ্লাইটে আসবেন হাজীরা

এনিউজ ২৪ . নেটঃ  পবিত্র হজ পালন শেষে আজ থেকে দেশে ফিরবেন হাজীরা। শনিবার সৌদি আরব থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। সৌদি আরব থেকে হাজিদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান বিমানবন্দরে হাজীদের বরণ করবেন বলে জানা গেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়ে চলে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এবার সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৮ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন।

 
 

বিমানের হজ ফ্লাইট ৭ই সেপ্টেম্বর শুরু

এনিউজ ২৪ . নেটঃ বিমানের হজ ফ্লাইট ৭ই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেভিন স্টিল গতকাল <