এনিউজ২৪.নেট॥ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস নিতে চায় ভারত। এমন একটি গ্যাসপাইপ লাইন...
শফিকুজ্জামান॥ মাত্র ০১ মিনিট ০৫ সেকেন্ডে বিশ্বের ২২০টি দেশের নাম বলে গিনেসবুকে নাম লেখানোর দাবীদার সৈয়দ আবদুস সবুর।...
খুলনা,প্রতিনিধি॥ নানা আয়োজনে আজ খুলনায় আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হল “পানি...

১. হারাম খাদ্য ও পোষাক থেকে নিজেকে বিরত রাখা।
২. হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকা।
৩. সুর করে দো‘আ পাঠ থেকে বিরত থাকা।
৪. ছন্দবদ্ধ দো‘আ থেকে বিরত থাকা।
৫. অন্তর থেকে দো‘আ পাঠ করা।
৬. দো‘আর ফলাফল লাভের জন্য তাড়াহুড়া না করা।
৭. সুখ-দুঃখ সর্ব অবস্থায় দো’আ করা।
স্টাফ রিপোর্টার॥ সাভারে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে অগ্নিদগ্ধ উদ্ধারকারী ইজাজউদ্দীন আহমেদ কায়কোবাদ মারা গেছেন। দীর্ঘ ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে শনিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ২৮ এপ্রিল সাভারে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে জীবিত সন্ধান পেয়ে কুষ্টিয়ার গার্মেন্টস কর্মী শাহিনাকে উদ্ধার করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন স্বেচ্ছাসেবক কায়কোবাদ। প্রথমে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পর অবস্থার অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

সাভার এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশবাসীর সাথে আমারাও শোকাহত। শোকার্তদের প্রতি রইলো সমবেদনা।

শির্ক সম্পর্কে
শির্ক ও তার পরিণতিঃ
১০. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- “মহান আল্লাহ আমার প্রতি এমন কতগুলো প্রত্যাদেশ করেছেন যা আমার কানে প্রবেশ করেছে এবং আমার হৃদয়ে বসে গেছে। আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করি যে লোক মুশরিক অবস্থায় প্রাণ ত্যাগ করেছে। আর যে লোক তার অবশিষ্ট সম্পদ অপরকে বিলিয়ে দেয়, তা তার জন্য কল্যানকর। আর যে তা আকড়িয়ে রাখে, তার জন্য তা অনিষ্টকর। আর জীবিকার সমপরিমাণ সম্পদ সঞ্চিত রাখার জন্য আল্লাহ্ কাউকেও অভিসম্পাত করেন না।”
ইবনে জারীর এ হাদিসটি হযরত কাতাদা (রাঃ) থেকে মুরসাল হাদীস হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
১১. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই তোমার উম্মতগণ সর্বদা (তর্কচ্ছলে) বলতে থাকবে-এটা কিভাবে হল? এটা কিভাবে হল? এমনকি ‘পরিশেষে বলবে, “এ সৃষ্টিকুলকে আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন; কিন্তু আল্লাহকে সৃষ্টি করেছে কে?”
ইমাম মুসলিম ও আবূ আওয়ানা এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
১২. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেছেন, “যাদেরকে আমার অংশী সাব্যস্ত করা হয় আমার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। যে লোক আমার সাথে (কোন কিছু বা কাউকে) অংশী সাব্যস্ত করে কোন আমল করে, তাকে আমি পরিত্যাগ করি এবং আমার সাথে সে যা শরীক করে আমি তা প্রত্যাান করি।”
মুসলিম ও ইবনে মাজা এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
১৩. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের প্রভূ বলেছেন, “যে লোক আমার সৃষ্টির অনুরূপ সৃষ্টি করেছে তার চেয়ে বড় অত্যাচারী আর কে আছে! সামর্থ্য থাকলে তাকে একটি মশা, কিংবা একটি কণা সৃষ্টি করতে বল।”
ইবনুন নাজ্জার এ হাদিসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
১৪. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- কেয়ামতের দিন জাহান্নামিদের কোন একজনকে জিজ্ঞেস করা হবে, “তুমি কি মনে কর তোমার কাছে যদি পার্থিব কোন বস্তু থাকত তবে তুমি মুক্তির বিনিময়ে তা দান করতে?” তখন সে বলবে “হ্যাঁ”। অনন্তর আল্লাহ্ বলবেন, “তোমার কাছে আমি এর চেয়েও নগণ্য বস্তু চেয়েছিলাম। আদমের পিঠে থাকাকালে তোমার কাছে চেয়েছিলাম, তুমি আমার সাথে কোন কিছু অংশী সাব্যস্ত করবে না। তখন তুমি অংশী স্থির না করার অংগীকার করেছিলে।”
আহমদ ও শায়খাইন, আবূ আওয়ানা ও ইবনে হাব্বান হযরত আব্বাস (রাঃ) থেকে এ হাদীসটি সংগ্রহ করেছেন।
১৫. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্ বলেন, “হে আদম সন্তান! একটি তোমার জন্য, আরেকটি আমার জন্য এবং আরেকটি আমার ও তোমার জন্য। অনন্তর আমার জন্য যা রয়েছে তা এই যে, তুমি আমার উপাসনা করবে, আমার সাথে কোন কিছু অংশী স্থির করবে না। আর যা তোমার জন্য তা এই যে, তুমি কিছু বা কোন আমল করলে তোমাকে তার পূরো প্রতিদান দেব। আর যা কিছু আমার ও তোমার জন্য তা এই যে, তুমি প্রার্থনা করবে আর আমি তা মঞ্জুর করবে।”
নাসায়ী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন। তবে তিনি একে দূর্বল হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন।
শিরক না করার পুরস্কারঃ
১৬. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেছেন, “হে আদম সন্তান! যতক্ষন পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকতে থাক এবং আমার আশা পোষণ করতে থাক সে পর্যন্ত আমি তোমাকে মার্জনা করতে থাকি, তোমার যত পাপই হোক না কেন। আর আমি কোন ভয় করি না। হে আদম সন্তান! যদি তোমার পাপরাশি আসমান পর্যন্তও পৌছে, তারপর তুমি আমার কাছে মাফ চাও, আমি তোমাকে মাফ করে দিই এবং আমি কাউকে গ্রাহ্য করি না।”
“হে আদম সন্তান! যদি তুমি আমার কাছে পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আস আর আমার কোন অংশী স্থির না করে আমার সাথে সাক্ষাত কর, নিশ্চয়ই আমি সে পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব।”
তিরমিযী, তিবরানী ও বায়হাকী এ হাদীসটি হযরত আবূ যর (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
১৭. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান মর্যাদাশালী আল্লাহ বলেছেন, “হে আদম সন্তান! যে পর্যন্ত তুমি আমার উপাসনা কর এবং আমার কাছে কামনা কর, আর আমার সাথে কোন শরীক না কর, সে পর্যন্ত আমি তোমার সকল পাপ মার্জনা করে দেই। আর তুমি যদি আকাশসমূহ ভরা অপরাধ ও পাপ নিয়ে আমার দিকে এগুতে থাক, আমিও অনুরূপ ক্ষমা নিয়ে তোমার দিকে এগিয়ে আসি এবং তোমাকে ক্ষমা করে দেই। আর আমি সকল পরিণামের ঊর্দ্ধে।”
শীরাযী এ হাদীসটি হযরত আবুদ্ দারদা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
১৮. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রান্ত আল্লাহ্ বলেন, “যে লোক কোন ভাল কাজ করে তার জন্য ওর দশগুন এবং তার চেয়েও বেশি পুরস্কার রয়েছে। আর যে লোক কোন খারাপ কাজ করে, এর প্রতিদান ওর সমপরিমান কিংবা আমি তা ক্ষমা করে দেই। আর যে লোক আমার সাথে কোন কিছু শরীক না করে পৃথিবী সমান পাপ করে তারপর আমার সাথে সাক্ষাত করে, আমি তাকে ওর সমপরিমাণ মার্জনা করে থাকি। আর আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দু’হাত অগ্রসর হই। যে লোক আমার দিকে ঁেহটে অগ্রসর হয়, আমি দ্রুত পায়ে তার দিকে অগ্রসর হই।”
আহমদ, মুসলিম, ইবনে মাজা ও আবূ আওয়ানা এ হাদীসটি হযরত আবূ যর (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
১৯. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান মর্যাদাশীল আল্লাহ্ বলেছেন, “যে লোক জানে যে, আমি যাঁবতীয় গুনাহ মাফের অধিকারী, তাকে আমি মাফ করে দেই। আর আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা পর্যন্ত আমি কারো কোন দোষ ধরি না।”
তিবরানী ও হাকেম এ হাদিসটি হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
সময় ও কালকে গালি দেয়াও শিরকঃ
২০. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান মর্যাদাশীল আল্লাহ ্ বলেছেন, “আদম সন্তান কালকে গালি দিয়ে আমাকে কষ্ট দেয়, অথচ আমিই কাল, কর্তৃত্ব আমারই হাতে, আমিই রাত-দিনের পরিবর্তন করি।”
আহমদ, আবূ দাউদ ও শায়খাইন এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
২১. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সময়কে গালি দিও না; মহান আল্লাহ বলেছেন, “আমিই সময়। দিন ও রাতকে আমি নতুন রূপ দান করি, আর আমিই শাসকদের উপর আরেক শাসকদেরকে চাপিয়ে থাকি।”
বাহয়াকী এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
২২. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ্ বলেন, “আমি আমার বান্দার কাছে ঋণ চেয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাকে ঋণ দেয়নি। আর আমার বান্দা আমাকে গালি দিয়েছে, অথচ সে তা জানে না। সে বলে, হায়রে সময়! হায়রে সময়! মূলত আমিই সময়।”

মোঃ তৌহিদুল ইসলাম রাসেল॥ ৪৭তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দফা আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। আর ২০ জানুয়ারি রোববার অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। এ দফায় যোগ দিতে বুধবার থেকেই জামাতবদ্ধ মুসল্লিরা তুরাগ তীরে ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেছেন। রোববার দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।
দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিন শুক্রবার জুম্মার নামাজে ইজতেমা মাঠে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ধর্মীয় এই মহা-সমাবেশে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায়ও দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব।
১৬০ একর এলাকাজুড়ে প্রথম পর্বের জন্য প্রস্তুতকৃত বিশাল চটের প্যান্ডেলকেই গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংযোগসহ ওযুখানা-গোসলখানা সুবিধা সহকারে দ্বিতীয় পর্বের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। মুসল্লিদের মাঝে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ইজতেমা মাঠে শুরু হয়েছে।
প্রথম পর্ব থেকে চালু হওয়া মুসল্লিদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রসমূহ মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধপত্র বিতরণ চালু রাখা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা ও প্রস্তুতি আগের দফার মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

॥ শামসীর হারুনুর রশীদ ॥
মহান আল্লাহ মানব দানবের সৃষ্টিলগ্ন থেকে তাদের হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে প্রায় সোয়া লক্ষ নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাদের প্রত্যেকেরই প্রধান মিশন ছিল মানুষের আত্মাকে নিয়ে। কারণ মানুষের সাড়ে তিনহাত দেহের যেমন রোগ হয়, তেমনি আত্মারও বিভিন্ন ধরণের রোগ হয়ে থাকে। আত্মার প্রধান রোগ হচ্ছে শিরক, কুফুর, বেদআত ও নেফাক। এর পরবর্তি রোগ হচ্ছে রিয়া, সোমা, অহংকার, হিংসা, লোভ, দুর্নীতি, সগীরা, কবীরাগুনা সহ আরো অনেক.....। এগুলোকে দূর করতে হযরত আদম আ. থেকে হযরত ঈসা আ. পর্যন্ত অব্যাহত গতিতে দাওয়াত ও তাবলীগের কার্যক্রম চলে আসে। হযরত ঈসা আ. কে আকাশে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর কিছু দিন সে ধারা বন্ধ থাকায় মানুষ পশুর সমতুল্য হয়ে গিয়েছিল। তারা মৃত প্রাণী ভক্ষণ করত, মেয়ে শিশুকে জীবন্ত করবস্থ করত। মানুষে মানুষে হানাহানী এত প্রকট আকার ধারণ করেছিল যে, সে যুগটি জাহিলিয়্যাতের যুগ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিল।
ঠিক সেই মুহুর্তে এক অবিনাশী সামগ্রিক বিপ্লবের বাণী নিয়ে এই পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন হযরত রাসুল সা.। পূর্ণ সভ্যতা, মানবতা ও শ্রেষ্ঠতর আদর্শের এই বিপ্লবী দাওয়াত কতদিন দিয়েছিলেন রাসুল সা.? খুব বেশি হলে ৮১৫৬ দিন! এ স্বল্প সময়ে তার ডাকে সাড়া দিয়ে যে বিশাল অঞ্চল আদর্শের সবুজ চিন্তায় পল্লবিত হয়ে উঠেছিল, তা যদি আজকের জ্যামিতিক হিসেবে বিচার করা হয় তাহলে দেখা যাবে হযরত সা’র দাওয়াতে প্রতিদিন ২৭২ বর্গমাইল অঞ্চল সাড়া দিয়েছিল। এই বিপ্লবের সবচে বিস্ময়কর বিষয় হল, তাঁর মাধ্যমে অর্থনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি, আখলাক, রাজনীতিসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে এক বিশাল বিপ্লব সাধিত হয়েছিল খুবই স্বল্প সময়ের পরিসরে। কিছু দিনের মধ্যে পৌত্তলিক সমাজ ব্যবস্থার বিপরীতে, প্রিয় নবী সা. হয়ে গেলেন পৃথিবীর সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন্যে অনুসরণীয় নমুনা মডেল।
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ, বিশ্বের অন্যান্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন কোন দ্বীপ নয়। যদিও অমুসলিম পরিবেষ্টিত হবার দিক দিয়ে একটা ‘মুসলীম দ্বীপ’ মনে হয়। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এ মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশটি। বাংলাদেশ নামে রাজনৈতিক পরিচয় ১৯৭১ সালে হলেও, অত্র এলাকায় ইসলামী দাওয়াত ও তাবলীগের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। সাধারণ ধারণা, প্রথম হিজরী শতকের শেষ দশকে (৯৬ হি:) মুহাম্মদ বিন কাসেম কর্তৃক সিন্ধু জয় করার পর থেকে মুবাল্লিগ বা ধর্ম প্রচারকগণ উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন এবং তাঁদেরই কোন একটা দলের ধারা সর্বপ্রথম এতদঞ্চলে ইসলামের আলো প্রজ্জলিত হয়েছে। কিন্তু এ তথ্যটি চুড়ান্ত বলে মেনে নেয়া হয় না, তবে আমাদের বিজ্ঞ ইতিহাসবিদগণও একথা বলতে পারেন না যে, ইসলাম এদেশে কোন্ পথ কার মাধ্যমে এসেছিল। তাই বাংলাদেশে ঠিক কোন যুগে ইসলামের প্রবেশ ঘটেছে, তা নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজন কয়েকটি তথ্যের তা হলো-
ক. নবী করীম সা. এর আবির্ভাবের কিছুকাল পুর্ব থেকেই আরব জনগণ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নৌ-পথের প্রতি বেশী পরিমাণে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল। কারণ ইরান এবং সাম্রাজ্যের মধ্যে অব্যাহত যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে আরবদের জন্য তখন স্থলভাগে বাণিজ্যের পথ মারাত্মক বিঘ্নীত-সংকুল হয়ে পড়েছিল। ইয়ামান-হাযরা মাউতের আরবদের নৌ-পথে বাণিজ্য করার অভিজ্ঞতা আরও আগ থেকেই ছিল। এদের বাণিজ্যবহর নিয়মিত ভারত উপমহাদেশ, বার্মা, কম্বোডিয়া এবং মালাক্কা প্রণালী পর্যন্ত যাতায়াত করত। খৃষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর শেষ ভাগে খোদ মক্কার কুরাইশ বণিকরাও নৌপথে বহির্বাণিজ্যের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে পড়েছিল।
আরবদের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রসার হওয়ার সাথে সাথে আমাদের এ উপমহাদেশের উপকূল অঞ্চলে অবস্থিত প্রসিদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র গুলির আশপাশে আরবদের স্থায়ী উপনিবেশও পড়ে উঠেছিল। দক্ষিণ ভারতের মালাবার, কালিকট, চেরর এবং আমাদের চট্টগ্রাম ও আরাকান উপকূলে আরব জনগণের এরূপ বসতি ইসলামপূর্ব কয়েক শতাব্দী পূর্বে গড়ে উঠেছিল বলে বহু প্রমাণ রয়েছে। মাও: সৈয়দ সুলায়মান নদভী তাঁর বিরল গবেষণা গ্রন্থ ‘‘আরব ও হিন্দকে তা’আল্লুকাত’’ পুস্তকে উপমহাদেশের উপকূল অঞ্চলে গড়ে উঠা উপনিবেশগুলো সম্পর্কে অনেক মনোরম তথ্য সন্নিবেশ করেছেন।
আরব দেশ থেকে বছরে অন্তত: দু’বার এসব উপনিবেশে, নৌ-বহর এসে নোঙর করতো। ফলে বাণিজ্য পণ্যের আদান-প্রদান হতো, তেমনি সংবাদাদিরও আদান-প্রদান চলতো।
ইসলামের আবির্ভাব সমগ্র আরবেই একটা দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এমন একটা সাড়া জাগানো খবর বণিকদের মাধ্যমে বিদেশের উপনিবেশ গুলিতে পৌছে নাই, এমনটা ধারণা করা যায়না। নিশ্চয়ই নবী করীম সা. এর আবির্ভাব এবং তাঁর প্রচারিত ধর্মমতের কথা বণিকদের মুখে মুখে বাইরেও প্রচারিত হয়েছিল।
খ. ইসলামের বাণী বাইরে প্রচার করার জন্য সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই প্রধানত: কিছু সংখ্যক বিজ্ঞ সাহাবীকে রাসূল সা. হাবশায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ লোহিত সাগরের প্রবেশ পথে অবস্থিত হাবশা ছিল তখন একটা উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যকেন্দ্র। পশ্চিমে মিসর এবং পূর্বে চীন পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌবহর হাবশায় এসে যাত্রা-বিরতি করতো। এখানকার বাজারে বিপুল হারে পণ্য বিনিময় হতো। রসুল সা. এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য-কেন্দ্রটি পূর্ন মাত্রায় খবর আদান-প্রদানের কেন্দ্ররূপে ব্যবহার করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত এখান থেকেই সাহাবী হযরত আবু ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে আরও তিনজন সাহাবী এবং বেশ কিছু সংখ্যক হাবশী মুসলমানসহ পূর্ব দিককার সুদীর্ঘ বাণিজ্য পথটি ধরে, ধর্ম প্রচারকগনের একটি দল বের হয়ে পড়েছিলেন। আর তাঁদের মাধ্যমেই আমাদের এ উপমহাদেশের প্রতিটি উপকূলীয় বাণিজ্যকেন্দ্র ও ‘আরব উপনিবেশ থেকে শুরু করে সুদূর চীনের ক্যান্টন পর্যন্ত ইসলামের বাণী রাসূল সা.’র জীবদ্দশাতেই পৌঁছে গিয়েছিল বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
হাবশায় হিজরত হয়েছে নবুওতের পঞ্চম সালে। সপ্তম সালেই হযরত আবু ওয়াক্কাস, সম্রাট নাজ্জাশীর দেওয়া একখানা সমুদ্রগামী জাহাজ নিয়ে বের হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর সাথে ছিলেন সাহাবী হযরত কায়স ইবনে হুযাফা রা., হযরত ওরওয়াহ ইবনে আছাছা রা., এবং হযরত আবু কায়স ইবনুল হারেছ রা.।
রিজাল এর প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোতে উল্লিখিত চারজন সাহাবীর নাম পাওয়া যায়। তাঁরা যে হাবশায় হিজরত করেছিলেন, এ তথ্যও পাওয়া যায়। কিন্তু হাবশা থেকে তাঁরা মক্কা বা মদীনায় ফিরে গিয়েছিলেন কি না, কিংবা তাঁদের মৃত্যু কোথায় হয়েছে, এ সম্পর্কে কোন তথ্য সেসব কিতাবে নেই।
চীন অভিযানকারী দলের নেতা ছিলেন হযরত আবু ওয়াক্কাস মালিক ইবনে ওহাইব ইবনে ‘আবদে মানাফ। তাঁর সুযোগ্য পুত্র-কাদেসিয়া বিজয়ী হযরত সা’আদ বিন আবু ওয়াক্কাসের সাথে হযরত মালিকের ‘আবূ ওয়াক্কাস’ নামই বেশী খ্যাত হয়েছে।
হযরত আবূ ওয়াক্কাস ছিলেন রাসুল সা. এর মাতা হযরত আমিনার আপন চাচাতো ভাই। সে হিসাবে রাসুল সা. এর মামা। চীনা ভাষায় সে দেশে ইসলামের আগমন সম্পর্কিত যে সব তথ্য-সূত্র রয়েছে, তা থেকে জানা যায় যে, খৃষ্টীয় ৬২৬ সনের কাছাকাছি কোন একটা সময়ের মধ্যে চীন উপকূলে ইসলাম প্রচারকগণ অবতরণ করেন। দলের নেতা ছিলেন রাসুল সা. এর মাতুল। তাঁর সাথে রসূলুল্লাহর আরও তিনজন সাহাবী ছিলেন। দলনেতা হযরত আবু ওয়াক্কাস রা. ক্যান্টন বন্দরে অবস্থান করেন। তাঁর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোয়াংটা মসজিদটি এখনও সমুদ্র-তীরে সুচ্চ মিনার নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মসজিদের অদূরেই তাঁর কবর গত প্রায় চৌদ্দশ’ বছর ধরে চীনা মুসলমানদের সর্বাপেক্ষা পবিত্র ও প্রিয় জিয়ারতগাহ রূপে পরিচিত হয়ে আসছে। অন্য দু’জন সাহাবী উপকূলীয় ফু-কীন প্রদেশের চুয়ান-চু বন্দরের নিকটবর্তী লিং নামক পাহাড়ের উপর সমাহিত রয়েছেন। চতুর্থ জন দেশের অভ্যন্তরভাগে চলে গিয়েছিলেন বলে উল্লিখিত হয়েছে।
হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ইমাম আবাদান মারওয়াযীর বয়ান মুতাবিক হযরত আবু ওয়াক্কাস, মালিক ইবনি ওহাইব রা. নবুওতের পঞ্চম সনে হাবশায় হিজরত করেছিলেন। সপ্তম সনে তিনজন সাহাবী এবং কিছু সংখ্যক হাবশী মুসলমানসহ দু’টি সমুদ্রগামী জাহাজ যোগে চীনের পথে বের হয়ে যান। চীনা মুসলমানদের বই-পুস্তকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হযরত আবু ওয়াক্কাসের জামাত ৬২৬ খৃষ্টাব্দ মুতাবিক হিজরী তিন সনে চীনে পৌছেছিলেন। এতে বোঝা যায় যে, এঁরা হাবশা থেকে বের হওয়ার পর অন্যূন নয় বছর পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অতিবাহিত করেছেন। আর এই নয় বছর সময়সীমার মধ্যেই ইসলামের বাণী ভারত এবং বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে পৌঁছেছে। সুতরাং এ তথ্য অনুযায়ী বলা চলে যে:
ক. বাংলাদেশে ইসলাম স্থলপথে নয়, সমুদ্রপথে এসেছে।
খ. খোদ রাসুল সা. এর জীবদ্দশায়, এমন কি সম্ভবত: হিজরতেরও আগে বাংলার উপকূল অঞ্চলে ইসলামের আলো বিস্তার লাভ করেছে।
গ. বাংলাদেশে সাহাবীর আগমন হয়েছে এবং তাঁরা এ দেশে যথেষ্ট সংখ্যক অনুসারী বা তাবেয়ী রেখে গেছেন।
ঘ. অসম্ভব কিছু নয় যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দূরবর্তী এলাকা-এমন কি চীনে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুসলমানগণও অংশগ্রহন করেছেন। কেননা, হযরত আবূ ওয়াক্কাসের রা. সুদীর্ঘ সফরে প্রতিটি বিরতিস্থান থেকেই পরবর্তী মনযিল পর্যন্ত যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় লোক-লস্কর এবং রসদাদি সংগ্রহ করার প্রয়োজন নিশ্চয়ই হয়েছিল।
সাহাবী হযরত আবূ ওয়াক্কাস মালিক ইবন ওহাইব রা. এর দীর্ঘ নয় বছরের ভ্রমণ বৃত্তান্তের লিখিত কোন দলীল আমাদের হাতে নেই। এ সম্পর্কিত কিছু বিবরণ রয়েছে চীন দেশীয় মুসলমানদের প্রাচীন পুঁথিপুস্তক এবং মালাবার এলাকার প্রাচীন কিছু লোক কাহিনীতে। তামিল ভাষায় লিখিত এসব লোক-কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে অবশ্য কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘‘বাংলা বিশ্বকোষে’’ও কোন সংশয় প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্বকোষের নিবন্ধকার ও সম্পাদগণ চেরর রাজ্যের বর্ণনা প্রসঙ্গে যে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, সেটা নিম্নরূপ:
পুরাবৃত্ত পাঠে জানা যায় যে, ‘চেরর রাজ্যের শেষ রাজা চেরুমল পেরুমল ইচ্ছা পূর্বক সিংহাসন পরিত্যাগ করিয়া মুসলমান ধর্ম গ্রহণ অভিলাষে মক্কা নগরীতে গমন করেন। [বিশ্বকোষ ১৪-২৩৪]।’
চেররের রাজা চেরুমলের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কিত যে সব তথ্য তামিল ভাষার প্রাচীন পুঁথি-পুস্তক এবং স্থানীয় লোকদের পুরাকাহিনীতে রয়েছে, তা মোটামুটি নিম্নরূপ:
‘আরব দেশের একদল লোক জাহাজযোগে মালাবারে আগমন করেছিলেন। তাঁদের প্রভাবেই রাজা চেরুমল-পেরুমল ইসলামে বায়’আত হন। অত:পর ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত লাভ করার বাসনা নিয়ে রাজা এক দল লোকসহ মক্কা শরীফে পৌঁছেন। রাজা সঙ্গে করে আল্লাহর নবীর জন্য কিছু মূল্যবান উপহার সামগ্রী নিয়ে গিয়েছিলেন। তন্মধ্যে আদা এবং এ দেশে নির্মিত একটি মূল্যবান তরবারীও ছিল। রাসুল সা. সেই আদা নিজে খেয়েছেন এবং সাহাবীগণের মধ্যেও বণ্টন করে দিয়েছিলেন। তরবারীটি বরাবরই তাঁর সঙ্গে ছিল। রাজা কিছুকাল রাসুল সা. এর সাহচর্যে থাকার পর দেশের পথে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে ‘শাহর’ নামক বন্দরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে রাজার ইন্তেকাল হয়ে যায়। ইসলাম গ্রহণকারী এই রাজা দেশবাসীর নিকট এতই প্রিয় ছিলেন যে, এমন একটা মহৎপ্রাণ লোকের মৃত্যু হতে পারে, এ কথা যেন তারা বিশ্বাসই করতে পারলো না। ফলে তাদের মধ্যে এমন একটা বিশ্বাস প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল যে, ধর্মপ্রাণ সেই রাজা একদিন অবশ্যই ফিরে আসবেন।’- [শায়ক যয়নুদ্দীন প্রণীত তোহফাতুল মোজাহেদীন গ্রন্থ দ্রষ্টব্য]
রাজা চেরুমলের রাজ্য চেররে জাহাজযোগে একদল ‘আরবের আগমন এবং তাঁদের প্রভাবেই প্রভাবিত হয়ে রাজার ইসলাম গ্রহণ ও মক্কা শরীফ গমনের কাহিনীটি এতই প্রচারিত এবং বহুল প্রচলিত যে, এটিকে ভিত্তিহীন বলার কোন অবকাশ নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, হযরত রাসুল সা. এর মক্কায় অবস্থানকালেই মালাবার বা চেরর রাজ্যে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে কে এসেছিলেন? এ প্রশ্নের জবাবে সন্দেহাতীতভাবেই বলা চলে যে, এ জামাতটিই ছিলো হাবশা থেকে আগত হযরত আবু ওয়াক্কাসের জামাত। হযরত আবু ওয়াক্কাস এখানে কিছুকাল অপেক্ষা করে ইসলাম প্রচার করেছিলেন। তাঁর চেষ্টায় শুধু রাজাই নয়, আরও বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
মালাবার থেকে রওয়ানা হওয়ার পর হযরত আবূ ওয়াক্কাস রা. এর দ্বিতীয় মনযিল কোথায় ছিল, এ প্রশ্নের জবাবও খুব জটিল বলে মনে হয় না।
আল্লামা সৈয়দ সুলায়মান নদভী লিখেছেন যে, মিসর থেকে সুদুর চীন পর্যন্ত প্রলম্বিত সুদীর্ঘ সমুদ্রপথে ‘আরব নাবিকগণ নৌ-পরিচালনা করতেন। মালাবার উপকূল হয়ে তাঁরা চীনের পথে বঙ্গোপসাগরে এসে প্রবেশ করতেন। এখানকার চট্টগ্রাম এবং কামরূপে তাঁদের বাণিজ্য বহর নোঙ্গর করত। দীর্ঘ পথে পালে টানা জাহাজের একটানা যাত্রা সম্ভবপর ছিল না। পথে পথে যে সব মনযিল ছিল, সেগুলিতে আবশ্যিকভাবেই থেমে জাহাজ মেরামত এবং পরবর্তী মনযিলের জন্য রসদপাতি সংগ্রহ করতে হতো। [আরবোঁকী জাহাজরানী]
উপর্যুক্ত বর্ণনা দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, মালাবার থেকে রওয়ানা হওয়ার পর হযরত আবু ওয়াক্কাসের জাহাজ বাংলার বন্দরে নোঙ্গর করেছিল। চীনের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও পরিব্রাজক মাহুয়ান-এর অন্য একটি বর্ণনা অনুযায়ী জানা যায় যে, বর্তমান চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের মধ্যবর্তী কোন একটি স্থানে এমন একটা বন্দর-নগরী ছিল, যেখানে খুব উন্নত মানের সমুদ্রগামী জাহাজ তৈরী হতো। এসব তৈরী জাহাজ সমগ্র প্রাচ্য-জগতে ব্যবহৃত হতো। এই বন্দরে জাহাজ মেরামতও করা হতো। দূর পথে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ এই বন্দরে যাত্রাবিরতি করতো।- [তমদ্দুনে আরব]
হযরত আবু ওয়াক্কাসের কাফেলা বাংলার সেই বিখ্যাত বন্দরে যাত্রাবিরতি না করেই সুদুর চীনের পথে অগ্রসর হয়েছিলেন, এমনটা ভাবা যায় না। এই পবিত্র জামাত অবশ্যই বাংলার বন্দরে যাত্রাবিরতি করেছিল এবং এখানে বেশ যুক্তিসঙ্গত সময় পর্যন্ত অবস্থান করে তাঁরা কিছু লোককে ইসলামের বায়আত করে গিয়েছিলেন। আর, এসব লোকই নীরবে এদেশে তাওহীদের বাণীর প্রচার কার্য চালিয়ে গেছেন। ইখতিয়ারুদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক ১২০১ সনে বঙ্গ বিজয়ের প্রাক্কালে বঙ্গ বিজয়ের আগ পর্যন্ত ইসলামী দাওয়াত ও তাবলিগের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন, একথাই স্বাভাবিক। এসব মুবাল্লিগের প্রচেষ্টাতেই ৬৯ হিজরী সনে বৃহত্তর রংপুরের গাইবান্ধা গ্রামে মসজিদ নির্মিত হয়। মোট কথা, বাংলাদেশে ইসলামের আগমন যে একেবারেই প্রাথমিক যুগে হয়েছে এবং তা স্থল পথে নয়, সমুদ্র পথে হয়েছে, তাতে এখন আর সন্দেহ করার কোন উপায় নেই।
এদেশে অসংখ্য ইসলাম প্রচারক সূফী পীর মাশায়েখ, ওলামা, মুসলিম ব্যবসায়ী ও মুসলিম শাসকগণের প্রচেষ্টায় অত্র এলাকায় ইসলামের প্রসার ঘটে এবং এ দেশের মাটি ও মানুষের সংগে মিশে যায়। তবে অত্র এলাকায় ইসলাম প্রচারে যাঁদের অবদান সবচেয়ে বেশী, তাঁরা হলেন পীর মাশায়েখ সূফীয়ানে কেরাম। তাঁদের আধ্যাত্মিক শিক্ষা, চারিত্রিক গুণাবলী ও সাধারণ মানুষের সেবার নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ ইসলাম কবুল করেন।
যুুগে যুগে বিভিন্ন দাঈ, মুবাল্লিগ, পীর মাশায়েখ, সুফীয়ানে কেরামের মধ্যে কয়েকজন হলেন: শাহ্ সুলতান রুমী রহ. (তার আগমন ৪৪৫ হি.), শাহ মখদুম রহ. (৪৫০ হি.), ফরিদুদ্দীন শক্কর গঞ্জ রহ. (মৃ. ১২৬৯ খৃ.), শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রহ. (মৃ. ৭০০ হি:), শাহ জালাল রহ. (মৃ.১৩৪৭ খৃ.), শাহ বদরুদ্দিন আল্লামাহ রহ. (মৃ. ১৩৯৭ খৃ.), নূর কুতুবুল আলম রহ. (মৃ. ১৪৪৭ খৃ.), খান জাহান আলী রহ. (মৃ. ১৪৫৮ খৃ.), আর মুসলিম শাসকগণের মধ্যে যাঁদের নাম প্রণিধানযোগ্য, তাঁদের মধ্যে বখতিয়ার খিলজী (মৃ. ১২০৬), ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ রহ. (মৃ. ১৩৫০ খৃ.), গিয়াসুদ্দীন আযম শাহ রহ. (মৃ. ১৪০১ খৃ.), নওয়াব মুরশীদ কুলী খাঁ রহ. (মৃ. ১৭২৭ খৃ.)।
মোট কথা সকল প্রকারের দাঈগণ বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইসলামী দা’ওয়াতের কাজ করেন। অনেকেই মসজিদ ও খানকা প্রতিষ্ঠা করে, কেউ ওয়াজ নসীহত করে, কেউ ইসলাম বিরোধী রাষ্ট্র শক্তির মোকাবেলা করে, কেউ দেশ শাসন করে, কেউ সমাজকর্ম করে। (অসমাপ্ত)
তথ্য সুত্র:
১। মাও: মুহিউদ্দীন খান- বাংলাদেশে ইসলাম
ইসলামী ফাউন্ডেশন পত্রিকা- এপ্রিল ১৯৮৮ ইং
২। সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ ২য় খণ্ড পৃ: ৫৭
৩। ড: হাসান জামান- বাংলাদেশে ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৭ পৃ: ২১২
৪। প্রফেসর মুহাম্মদ আং রহীম-ইসলামী ফাউন্ডেশন পত্রিকা ডিসেম্বর ১৯৯১ ইং
৫। সিলেট গাইড-আব্দুল হামীদ মানিক।
![]()
ভয় ও উপাসনা একমাত্র আল্লাহর জন্যঃ
৫. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্ বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমি এবং জিন ও মানব জাতি এক মহাপরিস্থিতিতে অবস্থান করছি। তাদেরকে আমি সৃষ্টি করি, আর তারা অন্যের উপাসনা করে, তাদেরকে আমি জিবিকা দেই, আর তারা অন্যের শুকরিয়া জ্ঞাপন করে।”
(এ হাদীসটি হযরত আবুদ দারদ (রা) থেকে হাকেম ও তিরমিযী সংগ্রহ করেছেন।)
৬. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের প্রভূ বলেছেন, “সকলে আমাকেই ভয় করবে। কারণ, আমিই এর যোগ্য; এতএব আমার সাথে আর কাউকেও যেন উপাস্য স্থির করা না হয়। অনন্তর যে আমার সাথে আর কাউকেও উপাস্য স্থির করবে না, তাকে আমি ক্ষমা করে দেয়া কর্তব্য মনে করি।”
(আহমদ ও তিরমিযী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।)
৭. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, “আমার বান্দারা যদি পুরোপুরি আমার অনুগত হত, তবে নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে রাতে বৃষ্টিদান করতাম, তাদের জন্য দিনে রোদ উঠাতা এবং তাদেরকে বজ্র ধ্বনি শুনাতাম না।”
(আহমদ ও হাকেম এ হাদীসটি হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।)
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহের মহিমাঃ
৮. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন, “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর সম্প্রদায়কে আমার আরশের ছায়া তলে স্থান দাও। কারণ, নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে ভালবাসি।”
(দায়লামী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।)
৯. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- কোন মুসলমান বান্দা যখন ‘লা -ইলাহা ইল্লাল্লাহু‘ (আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই) বলে, তখন তা আকাশসমূহ ছেদন করে যায়, এমনকি তা আল্লাহর সম্মুখে গিয়ে পৌছে। আল্লাহ্ তখন বলেন, “স্থির হও”, তখন এটা বলে, “আমি কিরূপে স্থির হব- আমি যার দ্বারা উচ্চারিত হয়েছি এখনও তাকে মাফ করা হয়নি”। আল্লাহ তখন বলেন, আমি তোমাকে সে লোকের জিহ্বা দ্বারা পরিচালিত করিনি যাকে তার আগ মুহুর্তে মাফ করে দেইনি।”
(দায়লামী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।)
চলবে....................
![]()
হাদীসে কুদ্সী বা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জবানে আল্লাহর বাণী
সকল প্রশংসা বিশ্ব পালনকর্তা আল্লাহর জন্য সমর্পিত। উৎপীড়ক ও সীমালংঘনকারীগণ ছাড়া আর কেউ আল্লাহর ক্রোধানলে নিপতিত হয় না। সাইয়্যেদুল মোরসালীন ও ইমামুল মোত্তাক্বীন হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (সাঃ) এর প্রতি সালাম জ্ঞাপন করছি। আরো জ্ঞাপন করছি, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের প্রতি।
হাদীসে কুদ্সী কি?
ইসলামী শরীয়তের চার উৎস মূলের অন্যতম হচ্ছে, ‘আল হাদীস’ পবিত্র আল কুরআনের পরেই যার স্থান। হাদীস হচ্ছে - প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মাদ মোস্তফা (সাঃ)- এর মুখনিঃসৃত নিজস্ব বাণী ও কর্ম এবং রাসূল (সাঃ) কর্তৃক সাহাবায়ে কেরাম(রাঃ) গনের বক্তব্য ও কর্মের অনুমোদন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কথা, কাজ ও অনুমোদনের বিপরিত নয়, সাহাবায়ে কেরামের এমন সব কথা, কাজ ও অনুমোদন হাদীসের মধ্যে গণ্য।
হাদীসসমূহের মধ্যে এমন কতগুলো হাদীস রয়েছে যেগুলো আল্লাহর নবী (সাঃ) নিজ জবানে বর্ণনা করলেও তা মহান আল্লাহ তায়া’লার নামে বিবৃত হয়েছে। যেমন - ‘আল্লাহ তায়া’লা বলেছেন’ কিংবা ‘মহান আল্লাহ তায়া’লা বলেন’ এভাবে উল্লেখ হয়েছে। হাদীস শাস্ত্র বিশারদ - মুহাদ্দিসদের কাছে এগুলো ‘হাদীসে কুদসী’ নামে পরিচিত।
কুদ্স শব্দের অর্থ হচ্ছে - পবিত্র (দোষ-ক্রটি থেকে)। যা আল্লাহ তায়া’লার গুনবাচক নামসমূহের একটি নাম। যেহেতু এ হাদীসগুলো সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত তাই এগুলোকে ‘হাদীসে কুদ্সী’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন এ হাদীসগুলো ব্যক্ত করতেন, তখন তা সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করতেন। যেমন - আল্লাহ তায়া’লা বলেছেন বা বলেন, আবার কখনও বা বলতেন, ‘জিবরাঈ’লকে আল্লাহ তায়া’লা বলেছেন, কিংবা ‘জিবরাঈ’ল (আঃ) আমাকে বলেছেন।
মোট কথা যেসব হাদীসের মর্ম রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘ইলহাম’ কিংবা জিবরাঈ’ল (আঃ) এর মাধ্যমে জ্ঞাত হয়ে নিজ ভাষায় প্রকাশ করেছেন, তাই ‘হাদীসে কুদ্সী’ হিসেবে সুপরিচিত।
প্রাথমিক যুগের মুহাদ্দিসগণের মতে - ‘হাদীসে কুদসী’র সংখ্যা একশ’য়ের কিছু বেশি। কিন্তু পরবর্তী কালের মুহাদ্দিসগণ প্রায় সহস্র হাদীসকে ‘হাদীসে কুদসী’ হিসাবে গণ্য করেছেন।
উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হযরতুল আ’ল্লামা মুহাম্মদ মাদানী (রহঃ)- এর বিখ্যাত ‘হাদীসে কুদসী ’ সংকলন গ্রন্থ ‘আল ইতফা-ফা-তুস্ সুন্নিয়্যাতু ফিল আহা-দীসিল কুদসিয়্যাহ’ থেকে সুনির্বাচিত প্রায় তিনশত ‘হাদীসে কুদসী’ এর বঙ্গানুবাদসহ বিষয় ভিত্তিক রূপে উপস্থাপন করা হল।

এনিউজ২৪.নেট॥ সৌদি বাদশা শাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ মসজিদে নববির সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন। এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ হবে এটি। রাসুল সা. এর স্মৃতিবিজড়িত এই মসজিদের সম্প্রসারণ কাজ তিন পর্বে স¤পন্ন হবে। কাজ শেষ হলে মসজিদে নববিতে একসঙ্গে ২৮ লাখ লোক নামাজ আদায় করতে পারবে। মসজিদে নববির এই সম্প্রসারণ পূর্ব-পশ্চিমে স¤পন্ন হচ্ছে। শাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের তত্ত্বাবধানে হারামাইন শরিফাইনের সম্প্রসারণ কাজের এটি দ্বিতীয় পর্ব। সম্প্রসারণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এর পাশাপাশি জেদ্দা থেকে মক্কা পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের কাজও চলছে। এটি স¤পন্ন হলে হজ ও ওমরা যাত্রীরা জেদ্দা থেকে যেমন সহজে মক্কা পৌঁছাতে পারবে তেমনি জেদ্দার লোকেরাও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে এসে পড়তে পারবে।


তৌহিদুল ইসলাম রাসেল॥রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/আপনাকে তুই বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ/তোর সোনাদানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ দে যাকাত/মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ/ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে/যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ/ রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদৃ.. বাংলাদেশের আকাশে শনিবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে পুরো ৩০টি রোজা পালন শেষে সোমবার সারাদেশে মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। শনিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি এডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া এমপি। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, ‘২৯ রমজান ১৪৩৩ হিজরি শনিবার বাংলাদেশের আকাশে হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এ প্রেেিত ২০ আগস্ট সোমবার থেকে পবিত্র শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে। সুতরাং সোমবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।’ প্রতিমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মসভায় ইসলামী ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের বোর্ড অব গভর্নর-এর গভর্নর সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন, ধর্মবিষয়ক সচিব ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সহ-সভাপতি কাজী হাবিবুল আউয়াল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ম. হামিদ, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্য প্রফেসর ড. এ কে এম ইয়াকুব হোসাইনসহ চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ১৪৩৩ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শনিবার ২৯ রমজান ১৪৩৩ হিজরি, ৩ ভাদ্র ১৪১৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ আগস্ট ২০১২ খ্রিস্টাব্দ শনিবার, বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৩ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। এই প্রেেিত আগামী ৫ ভাদ্র ১৪১৯ বঙ্গাব্দ, ২০ আগস্ট ২০১২ খ্রিস্টাব্দ সোমবার থেকে পবিত্র শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ঈদের জামাতের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগায়। আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলে একই সময়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ঢাকা সিটি করপোরেশন এরই মধ্যে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১১টায় মোট ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে ঈদের প্রধান জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃংখলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বণিক নজরদারি বজায় রাখবে। সাদা পোশাকে র্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা তৎপর থাকবেন। ঢাকা উত্তর ও দণি সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় মহানগরীর ৯০টি ওয়ার্ডে মোট ৩৬১টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে এবং জাতীয় সংসদ ভবনে দণি প্লাজায় আরো দু’টি পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সেখানেও ঈদের জামাতের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলে রোববার থেকে তিনদিনের সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে। তবে জাতীয় শোকদিবস, লাইলাতুল কদরের সরকারি ছুটি এবং শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গত ১৫ আগস্ট থেকে ছুটি শুরু হওয়ায় এবার ঈদুল-ফিতরের ছুটি ৭ দিনে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈদের দিন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বনানীর ঢাকা গেট থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত প্রধান সড়ক এবং সড়ক দ্বীপসমূহে জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ঈদ মোবারক লেখা ব্যানার ও ফেস্টুন-সজ্জিত করা হবে। এ ছাড়া ঈদের দিন দিবাগত রাতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনসমূহে আলোকসজ্জা করা হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো ঈদের দিন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। ঈদ উপলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে উত্তর ও দণি সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল শিশু পার্কে প্রবেশ, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয় কর্মসূচি ও নিজ নিজ কর্মসূচির আলোকে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযথ মর্যাদায় সরকারি কর্মসূচির আলোকে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
ঈদ উপলে মুসল্লীদের নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীসহ সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
Page 1 of 3
মোহাম্মদ মাসুদ ॥ আজ সেই কালো অধ্যায়ের শোকাভিত ৩০ মে। এ দিবসটি স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য শোকাহত...
কূটনৈতিক রিপোর্টার: শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে বৃটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার ব্যারনেস সাঈদা ওয়ার্সি...
অন্যদিগন্ত নিউজ॥ আজ ২৪মে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ১০তম আইডিসি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও ২০তম বর্ষপূর্তি উৎসব-১৩। আইডিয়াল ডিবেটিং ক্লাব...
24 May 2013 Read more...মোঃতৌহিদুল ইসলাম রাসেল॥ অটিজম শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ আউটোস থেকে৷ অর্থাৎ আত্ম বা নিজ৷ বিশেষ ধরনের স্নায়ুবিক (ডিসঅর্ডার অব নিউরাল...
Read more...আজ ১ লা বৈশাখ পূর্ন হলো ২১, কিন্তু আজও আমি একা আর এই একাকিত্ব জীবন কে সত্য ও সুন্দর করে সাজাতে চাই। একজন জীবন সঙ্গী পেয়ে স্বপ্ন কে বাস্তবে...
Read more...|
সম্পাদক: মোহাম্মদ মাসুদ
অন্যদিগন্ত নিউজ (এনিউজ ২৪ ডট নেট) |