খুলনা,প্রতিনিধি॥ নানা আয়োজনে আজ খুলনায় আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হল “পানি...
এনিউজ২৪.নেট॥ সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ রাজন নামের একজনকে আটক করলেও তাঁকে ছিনিয়ে...
এনিউজ২৪.নেট॥ বাংলাদেশের উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তদসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে দেশের উপকূলীয়...

আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব। তার আগে উদ্বিগ্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে রেফ্রিজারেটর, মোটরসাইকেল, এয়ারকন্ডিশনার এবং টিভি সেট উৎপাদনকারীদের বিপক্ষে নানা প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে আমদানিকারকরা। যার ফলে এখাতের বিশাল বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মুখে। এজন্য দেশীয় শিল্পের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী পলিসির কথা বললেন ওয়ালটনের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড অব ক্রিয়েটিভ এন্ড পাবলিকেশন উদয় হাকিম। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেনএনিউজ২৪ডটনেট এর বিশেষ প্রতিনিধি লাকী আখতার॥
প্রশ্ন॥ বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও অটোমোবাইল পণ্য তৈরিতে বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে আছে?
উত্তর॥ এটা আমাদের জন্য একটা গৌরবের খবর যে, রেফ্রিজারেটর মোটরসাইকেল এয়ারকন্ডিশনার এবং টিভি উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ন হতে যাচ্ছে। আমাদের তৈরি এসব পণ্য রপ্তানিও হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ফ্রিজের চাহিদা বছরে ১০ লাখ, উৎপাদন হচ্ছে ১৪ লাখ। তিন লাখ মোটরসাইকেলের চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদন সম্ভব। এসির চাহিদা ১ লাখ হলেও উৎপাদন ক্ষমতা এর প্রায় তিনগুন। বলা চলে উচ্চ প্রযুক্তির এসব পণ্য তৈরিতে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ন। সরকার, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের দেশপ্রেম এবং পণ্যের গুনগত উচ্চমানের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়- বাংলাদেশের সামনে বিশাল সুযোগ রয়েছে এসেক্টরে অন্যতম শীর্ষস্থান দখলের। তারজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং রোডম্যাপ তৈরি করছি আমরা।
প্রশ্ন॥ এ সেক্টরে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটুকু?
উত্তর॥ আগেই বলেছি বিশাল সম্ভাবনা। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত ওয়ালটন পণ্য পৃথিবীর যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই ক্রেতাদের মন জয় করেছে। এতে করে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুতগতির দেশে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার দিকে থেকে বিশ্বের শীর্ষ ২০ এ জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, কূটনীতিক ও শীর্ষ ব্যবসায়ীরা ওয়ালটন তথা বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূয়শী প্রশংসা করছেন। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শীর্ষ ব্র্যান্ডের সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশ নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। আশা করছি এবছরের মধ্যেই ৫০ টি দেশে চলে যাবে ওয়ালটন পণ্য। এই সেক্টরে বাংলাদেশে একটা জোয়ার বয়ে যাচ্ছে এবং সরকার পলিসি সাপোর্ট নিয়ে সাথে থাকলে ভারত এবং চীনের চেয়েও আমাদের সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন॥ এসব পণ্যের আমদানিকারকরা বিশাল শুল্ক বৈষম্যের অভিযোগ করছেন।
উত্তর॥ তাদের অভিযোগ অযৌক্তিক। তারা বলছেন আমরা মাত্র ১৪ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছি। কথাটি সঠিক নয়। তারা যেখানে ১৪৯ শতাংশের মতো শুল্ক দিচ্ছেন; সেখানে আমরাও ক্ষেত্রবিশেষে ১১২ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছি। বিষয়টি নিজেদের মতো প্রচার করে তারা এনবিআর এবং সরকারের কাছ থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। তারা এসআরও-২১৩ বাতিলের দাবি করছে। কিন্তু ওই এসআরও করা হয়েছে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার স্বার্থে। যাতে কেউ ভূয়া ম্যানুফ্যাকচারিং লাইসেন্স নিয়ে অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে। এর আওতায় সরকার চার বছরের জন্য ভ্যাট সুবিধা দিচ্ছে। এই সুবিধার আলোকে ওয়ালটন, রানার, ইউনিটেক, মাইওয়ান, বাটারফ্লাইসহ বেশকিচু প্রতিষ্ঠান বিশাল বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছেন। এখন এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বিনিয়োগকারীরা পথে বসে যাবেন। ব্যাংক ঋণ এবং বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে বেকায়দায় পড়ে যাবেন। যারা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছিলেন তারাও এ পথ মাড়াবেন না। এজন্যই সরকারের উচিত শিল্পায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পলিসি তৈরি করা। চার বছরের সুবিধা দেবার কথা বলে এক বছর পর তা বন্ধ করা হলে সরকারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা থাকবে না। বিনিয়োগের মতো বিশাল ঝক্কি কেউ নিতে চাইবেন না।
প্রশ্ন॥ আমদানি শুল্ক কমালে তাদের দেশীয় উৎপাদকদের সমস্যা কী?
উত্তর॥ আমদানি শুল্ক কমালে দেশ আমদানি নির্ভর হয়ে পড়বে। স্থানীয় উৎপাদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশাল কর্মসংস্থানের পথ সংকুচিত হয়ে পড়বে। স্থানীয় বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়বে। এমনিতেই ব্যাপক আন্ডার ইনভয়েসিং এর কারণে দেশীয় উৎপাদনকারীরা বিরাট ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আমদানিপত্রে দেখা যাচ্ছে ২৫ থেকে ৫৫ ডলারে একেকটি এসি আমদানি করা হচ্ছে। যেখানে এসির একটি কম্প্রেসারের দামই ৮০ থেকে ১০০ ডলার। এখন ২৫ ডলারের একটি এসিতে দুইশ পারসেন্ট শুল্ক দিলেও তার পরিমান ৫০ ডলার। আর দেশীয় উৎপাদকেরা প্রতিটিতে ২০ হাজার টাকার কাঁচামাল ব্যবহার করে শুল্ক দিচ্ছে ১২৫ ডলার। ক্ষেত্রবিশেষে আরো বেশি শুল্কও দিতে হচ্ছে। একদিকে তারা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে ধ্বংস করছে। আমার ধারনা এর পেছনে একটি আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে। যারা চায়না এদেশে শিল্প গড়ে উঠুক, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াক। তারা চায় বাংলাদেশকে বিদেশী পণ্যের ডাম্পিং স্টেশন বানাতে। এর সঙ্গে আমি তুলনা করব মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারীদের। সেসময় ভূখন্ডের স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে, এখন অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিরোধিতা করা হচ্ছে। এর পেছনে বহুজাতিক কোম্পানী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা কাজ করছে। গার্মেন্টস শিল্পের মতোই এখাতের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে আমাদের অনুমান। দেশের সরকার এবং জনগণকে এবিষয়ে সচেতন হতে হবে। আমরা বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে নানা ধরনের টেষ্টের মুখোমুখী হই। অথচ বিদেশী নিুমানের পণ্য অবাধে ঢুকছে আমাদের দেশে। তাদের স্ববিরোধী মিথ্যাচারের আরেকটি নমুনা হলো একবার বলছেন, ওয়ালটনের চেয়ে তাদের পণ্যের দাম কম। আবার বলছেন ওয়ালটনের কারণে তারা বাজারে টিকতে পারছেন না। তাদের পণ্যের দাম কম হলে ভোক্তারাতো সেটাই কিনবেন। আর দেশীয় পণ্যের কারণে আমদানি করা পণ্য টিকতে না পারলে সেটিতো প্রকারান্তরে দেশেরই লাভ। আজ যারা দেশের শিল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার তারাতো দেশের টাকা বিদেশীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। অনেকেই বিদেশে বাড়ি গাড়ি করেছেন। গত ৪১ বছরে তারা একটি আলপিনও তৈরি করতে পারেন নি। এমনকি শেয়ার মার্কেটের টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের দেশপ্রেমও প্রশ্নবিদ্ধ। তারা দেশীয় শিল্পের বিরুদ্ধে যেসব প্রচারণা চালাচ্ছেন তার অর্থায়নও করছে বিদেশী কোম্পানী। কিন্তু সবকিছুর পরও আমরা আশার আলো দেখছি- কারণ বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম অন্যদের চেয়ে বেশি। নইলে ৯ মাসে দেশ শত্রুমুক্ত হতো না। নিশ্চয় তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবেন। সর্বোপরি সরকার এবং দেশপ্রেমিক ভোক্তারাই আমাদের বড় শক্তি।
প্রশ্ন॥ বাজেটে আমদানি শুল্ক কমালে কিম্বা আলোচিত এসআরও বাতিল করলে আপনারা কী করবেন?
উত্তর॥ আমদানি শুল্ক কমালে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাবে। বৈদেশিক বানিজ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে। রিজার্ভের উপর চাপ বাড়বে। নি¤œমানের বিদেশী পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে পড়বে। অন্যদিকে স্থানীয় উৎপাদকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন; এমনকি ফ্যাক্টরি বন্ধ করেও দিতে হতে পারে। তখন কেউ বিনিয়োগের ঝুঁকি নেবেন না। আমদানি এবং ট্রেডিং করে নগদ নারায়ণ নিয়েই খুশি থাকতে হবে। সেটা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ নষ্ট হবে। সেক্ষেত্রে দেশে তৈরি পণ্যের দাম বাড়বে এবং তার চাপ পড়বে ক্রেতাদের উপর। আবার উৎপাদন খরচ বাড়লে প্রতিযোগিতামূলক বৈদেশিক বাজারে রপ্তানিও সম্ভব হবে না। ওই এসআরও’র উপর ভরসা করে ওয়ালটন কম্প্রেসার ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। সেটা বন্ধ হলে ওই ফ্যাক্টরি স্থাপন সম্ভব হবে না। অন্যান্য যারা ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক্স মাদারবোর্ড, মোবাইল ফোন সেট ও গাড়ি তৈরির কারখানা করতে চাইছেন তারাও বিমুখ হবেন। সেইসঙ্গে এখাতের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন। বিশেষ করে ওয়ালটন এবং রানারের মোটরসাইকেল ফ্যাক্টরি প্রায় ধ্বংস হয়ে যাবে।
প্রশ্ন॥ এক্ষেত্রে সরকার এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মনোভাব কী?
উত্তর॥ আমরা রেফ্রিজারেটর এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহৃদয় সহানুভূতি কামনা করেছি। বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। অর্থমন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এফবিসিসিআই আমাদের পক্ষে থাকলেও সংগঠনটির একজন উপদেষ্টা যিনি নির্দয়ভাবে আমদানিকারকদের পক্ষাবলম্বন করে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং এনবিআরকে দেয়া কর প্রস্তাবে তার বক্তব্যই স্থান পেয়েছে। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির প্ররোচনায় একটি গোষ্ঠী দেশীয় শিল্পের বিরুদ্ধাচারণ করছে। আমি মনে করি বেকার জনগোষ্ঠীকে কর্মদিয়ে এবং ব্যাপক শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র দূর করা সম্ভব। কিন্তু দেশীয় শিল্পবিরোধী কোন সিদ্ধান্ত নিলে তা হবে নিজের পায়ে কুড়াল মারা মতো। বর্তমান সরকার ঘরে ঘরে চাকুরী দেয়ার কথা বলেছিলো। তারজন্য ব্যাপক শিল্পায়নের বিকল্প নেই। আজ সরকারের মন্ত্রীগণ, বিদেশী মন্ত্রী, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়ীরা ওয়ালটনের যেভাবে প্রশংসা করছেন তা দেশের জন্য ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করছে। তাই দেশের মঙ্গলের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও শিল্পবান্ধব নীতি আবশ্যক।
কূটনৈতিক রিপোর্টার: শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে বৃটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার ব্যারনেস সাঈদা ওয়ার্সি...
হায়দার আকবর খান রনো॥ সাভারের রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকের গলিত লাশের গন্ধে এখনো বাতাস ভারী হয়ে আছে। কান্না, বেদনা,...
হারুন অর রশিদ দুদু॥ খট্-খট্, টুকু-টুকু শব্দে বাড়ী মুখরিত। সাদা-কালো, লাল-নীল, সবুজ সহ নানা রং এর সুতোয় বানানো হচ্ছে আদিবাসী কোঁচ সম্প্রদায়ের...
18 May 2013 Read more...মোঃতৌহিদুল ইসলাম রাসেল॥ অটিজম শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ আউটোস থেকে৷ অর্থাৎ আত্ম বা নিজ৷ বিশেষ ধরনের স্নায়ুবিক (ডিসঅর্ডার অব নিউরাল...
Read more...আজ ১ লা বৈশাখ পূর্ন হলো ২১, কিন্তু আজও আমি একা আর এই একাকিত্ব জীবন কে সত্য ও সুন্দর করে সাজাতে চাই। একজন জীবন সঙ্গী পেয়ে স্বপ্ন কে বাস্তবে...
Read more...|
সম্পাদক: মোহাম্মদ মাসুদ
অন্যদিগন্ত নিউজ (এনিউজ ২৪ ডট নেট) |